অনন্যা সরকার, ট্রেনে যাত্রা করার সময় কোনো স্টেশনে ঢোকা বা সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে একটি জিনিস সবারই নজর কাড়ে – কুচকুচে কালো অক্ষরে স্টেশনের নাম লেখা উজ্জ্বল হলুদ রঙের নেমবোর্ড (Railway Station Board)। দেশের ছোট-বড় সব স্টেশনেই দেখতে পাওয়া যায় এই বোর্ড। কিন্তু জানেন কী, এত সব রঙের ভিড়ে কেন হলুদ ও কালোই জায়গা করে নিয়েছে রেল স্টেশনের নেমবোর্ডে? এই রঙগুলি কিন্তু এমনি এমনি বেছে নেওয়া হয়নি। এগুলি নির্বাচনের পিছনে সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক কারণের পাশাপাশি নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ও জড়িত রয়েছে। আসুন এবিষয়ে বিশদে জেনে নেওয়া যাক।
স্টেশনের নেম বোর্ডে হলুদ কালো রং থাকার কারণ
বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, মানুষের চোখ হলুদ রঙের প্রতি সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল হয়। যদিও লাল রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি, মানুষের চোখ দূর থেকে হলুদ রঙকে অনেক দ্রুত শনাক্ত করতে পারে। ফলে, দ্রুতগতির ট্রেনের চালকেরা দূর থেকে স্টেশন দেখতে পান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রেলগাড়ির গতি কমাতে পারেন।
আর কালো দিয়ে নাম লেখা হয় কারণ হলুদ ব্যাকগ্রাউন্ডে কালো লেখা সবচেয়ে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। এই উচ্চ কন্ট্রাস্টের কারণে, চালক বা যাত্রী কাউকেই নামগুলো পড়ার জন্য চোখে বেশি চাপ দিতে বা কষ্ট করতে হয় না। দূর থেকেও হলুদ রঙ স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। এমনকি রাতের অন্ধকারে, শীতে ঘন কুয়াশা বা স্বল্প দৃশ্যমানতার মধ্যেও দেখা যায় এই বোর্ডগুলি। ট্রেনের হেডলাইট বা প্ল্যাটফর্মের আলো যখন কোনো হলুদ বোর্ডের ওপর পড়ে, তখন তার কালো রঙের লেখাগুলো সেভাবে আলো প্রতিফলিত করে না, যাতে চোখে ধাঁধা লাগে বা দেখতে অসুবিধা হয়।
আরও পড়ুন: কম খরচেই ঘুরে আসুন থাইল্যান্ড, দারুণ ট্যুর প্যাকেজ নিয়ে এল IRCTC
এই সমস্ত সুবিধাগুলোর জন্যই ‘ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ওয়ার্কস ম্যানুয়াল’-এ স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, সমস্ত নেমবোর্ডের ক্ষেত্রে ‘ট্রাফিক ইয়েলো’ (Traffic Yellow) বা বিশেষ হলুদ রঙের ব্যাকগ্রাউন্ডের ওপর কালো রঙের লেখা ব্যবহার করতে হবে। মূল বোর্ডে অক্ষরের দৈর্ঘ্য ৩০০ মিলিমিটার এবং ছোট বোর্ডে ৭৫ মিলিমিটার রাখা বাধ্যতামূলক।
এছাড়া, মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকেও হলুদ রঙের ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে, এটি দ্রুত মানুষের মস্তিষ্ককে সতর্ক করে ও সামনের বস্তুটির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ফলে, ট্রেন চালক ও যাত্রী – উভয়ই সজাগ হয়ে যান। অর্থাৎ, হলুদ ও কালো রঙের এই রেলওয়ে সাইনবোর্ডটি কেবল ডিজাইনের জন্য নয়, বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত ও বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থিত নিরাপত্তা বিধিগুলির ওপর ভিত্তি করেই ভারতীয় রেলওয়ে দেশের প্রতিটি কোণায় ব্যবহার করে।