আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: হাসপাতালে মৃত্যু না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ডেথ সার্টিফিকেট পেতে কম-বেশি প্রতিটি পরিবারকেই সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল। তবে এইবার মানুষের হয়রানির দিন শেষ। পশ্চিমবঙ্গে ডিপ্লোমাধারী হোমিওপ্যাথি (Homeopathy) চিকিৎসকদের জন্য বড় স্বস্তির খবর। ডিএমএস এবং ডিএইচএমএস-সহ সংশ্লিষ্ট ডিপ্লোমাধারী চিকিৎসকদের জন্ম (Birth Certificates) ও মৃত্যুর শংসাপত্র (Death Certificates) দেওয়ার অধিকার ফেরাল রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। সম্প্রতি এই অধিকার প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছিল। ফলস্বরূপ চিকিৎসকদের আন্দোলন ও স্বাস্থ্যভবনে বিক্ষোভ চলে। এর পরই নড়েচড়ে বসে সরকার। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে নতুন করে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
কী বলা হয়েছে এই নির্দেশিকায়?
চলতি বছরের ৯ জুলাইয়ের একটি বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করেই বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ ছিল, ওই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ডিএমএস, ডিএইচএমএস-সহ বিভিন্ন ডিপ্লোমাধারী আয়ুষ চিকিৎসকের জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র দেওয়ার দীর্ঘদিনের অধিকার প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে, প্রত্যন্ত এলাকায় বাড়িতে মৃত্যু বা জন্মের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ বিরাট সমস্যায় পড়বেন, এমনটাই চিকিৎসক সংগঠনগুলির তরফে দাবি করা হয়।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চিকিৎসক সংগঠনগুলি স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে একাধিকবার ডেপুটেশন দেয়। বুধবার স্বাস্থ্যভবনের সামনে শতাধিক ডিপ্লোমাধারী হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক অবস্থান-বিক্ষোভ করেন। স্বাস্থ্য অধিকর্তা, যুগ্মসচিব এবং হোমিওপ্যাথি অধিকর্তার কাছেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য ছিল, বহু বছর ধরে যে দায়িত্ব তাঁরা পালন করে আসছেন, তা হঠাৎ করে কেড়ে নেওয়া যুক্তিসঙ্গত নয়। কোনও কারণ ছাড়া তাদের এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারে না সরকার।
ইতিহাসের দিক থেকেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, ডিএমএস চিকিৎসকেরা ১৯৬০-এর দশক থেকেই জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে ডিএইচএমএস চিকিৎসকেরাও এই ব্যবস্থার আওতায় আসেন। এর আগেও একসময় এই অধিকার প্রত্যাহার করা হয়, তবে দীর্ঘ আন্দোলনের পরে তা ফেরানো সম্ভব হয়েছিল। চলতি বছরের জুলাইয়ে ফের সেই একই ঘটনা ঘটে এবং এত বছরের অধিকার এক নিমেষে প্রত্যাহার করা হয়। তাই নতুন করে আন্দোলন শুরু করে চিকিৎসকরা।
আরও পড়ুন: ‘ভোট চুরি’র প্রমাণ কোথায়? কমিশন-বিচারব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ, ৪২ প্রাক্তন বিচারপতির খোলা চিঠি
শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের মধ্যেই স্বাস্থ্য দপ্তর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র দেওয়ার অধিকার পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেয়। চিকিৎসক সংগঠনগুলি এই ঘটনাকে নিজেদের আন্দোলনের সাফল্য হিসেবে দেখছে। পাশাপাশি, এই আন্দোলনে আগামী দিনে হোমিওপ্যাথি কলেজগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবিও তোলা হয়েছে। এ নিয়ে নভেম্বরে একটি কনভেনশন করার কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলি।