আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: সিপিআই(এম) নেতা তথা প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের (Bikash Ranjan Bhattacharya) বাড়িতে হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানালেন মমতা ব্যানার্জি (Mamata Banerjee)। বৃহস্পতিবার ভোরে পূর্ব যাদবপুরে বিকাশরঞ্জনের বাড়ি লক্ষ্য করে মদের বোতল ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। ভেঙে যায় জানলার কাচ, ক্ষতিগ্রস্ত হয় CCTV ক্যামেরাও। ঘটনার পর থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন বিকাশরঞ্জন।
এই ঘটনায় কী প্রতিক্রিয়া প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর?
ঘটনার পরই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা ব্যানার্জি। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, বারুইপুর আদালত, ব্যাঙ্কশাল আদালত, চন্দননগর এবং শালবনির ঘটনার পর কলকাতায় প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে ফের হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাঁর দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি হামলাকারীদের উগ্রতা স্পষ্ট। ভিডিও ফুটেজ দেখলেই বোঝা যায়, মানুষের মধ্যে ভয় কমে গিয়েছে। দুষ্কৃতীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আইনজীবীদের উপর একের পর এক হামলার তীব্র নিন্দাও জানান তিনি।
মমতা আরও বলেন, গত ১৫ বছরে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং তাঁদের মধ্যে আদর্শগত ও আইনি ক্ষেত্রে মতপার্থক্য থাকলেও “শালীনতার সীমা কখনও লঙ্ঘিত হয়নি।” তাঁর কথায়, বর্তমানে বিজেপির জামানায় তাদের বিরুদ্ধে যারাই কথা বলছে তাদেরকেই চুপ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
নিজেকে আইনজীবী হিসেবে উল্লেখ করে মমতা বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে আইনজীবীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “আমাদের সংবিধান, আইনজীবী সমাজ, বিচারব্যবস্থা, রাজ্য এবং সর্বোপরি আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি আমাদের ভারতকে রক্ষা করতে হবে।” একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে আইনজীবীদের উপর ধারাবাহিক হামলার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের ডাকও দিয়েছেন তিনি।
শুধু সমাজমাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েই থামেননি মমতা। বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের সঙ্গে ফোনে কথাও বলেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ দীর্ঘদিন রাজনৈতিক ও আইনি ক্ষেত্রে পরস্পরের বিরোধী অবস্থানে থাকা দু’জনের মধ্যে এই ঘটনায় সরাসরি কথোপকথনও হয়েছে।
আরও পড়ুন: পুজোয় নতুন জামা মাত্র ১০ টাকায়! রাজ্যে ‘নমো মল’ চালু করল বিজেপি
এদিকে হামলার ঘটনায় বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য অভিযোগ করেছেন, এর পিছনে ‘হিন্দুত্ববাদী দুষ্কৃতী’দের হাত রয়েছে। CCTV ফুটেজে মুখ কাপড়ে ঢাকা এক ব্যক্তিকে বাইকে এসে বাড়ির দিকে পরপর কাচের বোতল ছুড়তে দেখা গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, “আমাদের পিছনে লাগবি না, আমরা দেশভক্ত।” তবে হামলার নেপথ্যে কারা, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।