প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ‘পাথর সম্রাট’ টুলু মণ্ডলের (Tulu Mandal) ঘটনা নিল এক নয়া মোড়। মামলার তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই তদন্তকারীদের স্ক্যানারে উঠে এল ‘পাথরসম্রাট’ টুলু ঘনিষ্ঠ বালি ব্যবসায়ী প্রভাতকুমার মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রী জলি হাজরা। তাই সময় নষ্ট না করেই তড়িঘড়ি কিছু জরুরি তথ্য ও নথি উদ্ধারের আশায় বৃহস্পতিবার সিউড়ির বাড়িতে হানা দিল জেলা পুলিশ। ব্যাপক শোরগোল শুরু হয় এলাকা জুড়ে।
নজরে টুলু ঘনিষ্ঠ বালি ব্যবসায়ী
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল সংক্রান্ত মামলায় সিউড়ির সমন্বয়পল্লিতে বালি ব্যবসায়ী প্রভাতকুমার মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রী জলি হাজরা মণ্ডলের বাড়িতে ডিএসপি (আইনশৃঙ্খলা) কুণাল মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তল্লাশি চালিয়েছিল জেলা পুলিশ। যদিও তল্লাশি থেকে কোনও নথি উদ্ধার হয়েছে কি না, তা পুলিশ জানায়নি। এমনকি কী কারণে অভিযান চলেছিল সেই নিয়েও সরকারি ভাবে কোনও বক্তব্য দেওয়া হয়নি। তবে অনুমান করা হচ্ছে টুলু মণ্ডলের সঙ্গে তাঁদের আর্থিক লেনদেনের প্রকৃতি এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র খতিয়ে দেখতেই তল্লাশি করা হয়েছিল।
BLRO সব্যসাচীর মুখে উঠে এসেছিল নাম
পুলিশ সূত্রের খবর, বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে থাকা মহম্মদবাজারের প্রাক্তন বিএলআরও সব্যসাচী মণ্ডলকে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল আর সেই সময় নাকি তাঁর বক্তব্যে প্রভাত ও জলির নাম উঠে আসছিল। তাই সেই কারণে এদিন প্রাক্তন বিএলআরও সব্যসাচীকে সঙ্গে নিয়েই এই দম্পতির বাড়িতে চলে ম্যারাথন তল্লাশি। এখন দেখার তাঁদের বাড়ি থেকে তদন্তকারীরা কোন তথ্য উদ্ধার করতে পেরেছে কিনা। এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা। তিনি দাবি করেন, প্রভাত মণ্ডলদের সঙ্গে টুলু মণ্ডলের যোগাযোগ ছিল।
আরও পড়ুন: ব্যান কালচার বিতর্কে নয়া মোড়! মঞ্চে স্বরূপের মিমিক্রি করলেন অনির্বাণ, ভাইরাল ভিডিও
রামপুরহাটের বিধায়ক জানিয়েছেন, তৃণমূলের আমলে মহম্মদবাজারে বিপুল পরিমাণ বালি মজুত থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের কাছে সেগুলি পৌঁছায়নি। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে বালি-পাথর সংক্রান্ত বিষয়টির পিছনে বড়সড় অনিয়ম রয়েছে। তবে সবটাই এখন রয়েছে তদন্তের আওতায়। এদিকে গত সোমবার টুলুর মামলা স্থানান্তরিত হল সিউড়়ির বিশেষ আদালতে। এই মামলায় ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন ৪ জন রাজ্য সরকারি আধিকারিক। তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতিদমন আইনের একাধিক ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।