আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: ভারতের প্রত্যন্ত এলাকাগুলির কাছে ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছে দিতে মহাকাশভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর জোর দিচ্ছে রিলায়েন্স জিও (Reliance Jio)। সেই লক্ষ্যেই প্রায় ১,৬০০টি লো আর্থ অরবিট (LEO) স্যাটেলাইট (Satellite) এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ২৩টি গ্রাউন্ড স্টেশন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে এই সংস্থা। ৮ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়া ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেসে নিজেদের পরিকল্পনাকে “সার্বভৌম স্যাটেলাইট সংযোগ ব্যবস্থা” নামে তুলে ধরেছে Jio। অন্যদিকে, ভারতে বাণিজ্যিক পরিষেবা চালুর জন্য চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় দিন গুনছে ইলন মাস্কের (Elon Musk) Starlink।
কীভাবে কাজ করবে Jio-র স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক?
Jio তার পরিকল্পনায় স্যাটেলাইটকে কাজে লাগিয়ে ইন্টারনেট সংযোগকে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ফাইবার পরিকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার কথা বলেছে। অর্থাৎ, স্যাটেলাইট পরিষেবাকে টেলিকম ব্যবস্থার পরিপূরক হিসেবে কাজে লাগাতে চায় এই সংস্থা। যে সমস্ত প্রত্যন্ত এলাকায় মোবাইল টাওয়ার বসানো কিংবা ফাইবার কেবল পৌঁছে দেওয়া কঠিন, সেখানে এই প্রযুক্তি সব থেকে বেশি কার্যকরী। প্রত্যন্ত গ্রাম, দ্বীপ, সীমান্তবর্তী এলাকা ছাড়াও বিমান পরিষেবা, সমুদ্রপথে যোগাযোগ, সরকারি কাজ, প্রতিরক্ষা এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হয়ে উঠতে পারে।
৬ লক্ষেরও বেশি গ্রামে পৌঁছনোর লক্ষ্য
সংস্থার গৃহীত পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থলভাগ ও সমুদ্র, দুই ক্ষেত্রেই বিস্তৃত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে তারা। ৬ লক্ষেরও বেশি গ্রামকে এই পরিষেবার আওতায় আনার চিন্তাভাবনা রয়েছে এই সংস্থার। পাশাপাশি, গ্রামীণ এলাকায় সরাসরি ডিভাইসে কল করার ব্যবস্থাও Jio-র ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে বাস্তবে পরিষেবা চালু করতে গেলে উপযুক্ত পরিকাঠামো তৈরি ও অনুমোদন প্রয়োজন।
ভারতেই তৈরি হবে সম্পূর্ণ স্যাটেলাইট পরিকাঠামো?
Jio-র “সার্বভৌম স্যাটেলাইট সংযোগ ব্যবস্থা” পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ভারতে নিজস্ব স্যাটেলাইট পরিকাঠামো তৈরি করা।
- স্যাটেলাইটের নকশা তৈরি
- ইঞ্জিনিয়ারিং
- সংযোজন
- পরীক্ষা
- উৎক্ষেপণ
- পরিচালনা
এই সমস্ত পর্যায় ভারতে সম্পন্ন করা হবে এমনটাই পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে জুলাই মাসে Jio-র প্রায় ১,৬০০ স্যাটেলাইটের প্রস্তাবকে প্রযুক্তিগতভাবে উপযুক্ত বলে মূল্যায়ন করেছিল ভারতের মহাকাশ নিয়ন্ত্রক সংস্থা IN-SPACe।
Jio-এর পরিকল্পনার মাঝে ঢুকে পড়েছে Starlink?
Jio-র এই পরিকল্পনা সামনে আসার পাশাপাশি ঠিক একই সময়ে ভারতে Starlink-এর পরিষেবা চালুর বিষয়টিও মাথা চাড়া দিচ্ছে। ৮ অক্টোবর ইলন মাস্ক অভিযোগ করেছিলেন, কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠী নিজেদের একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখতে Starlink-কে ভারতে প্রবেশ করতে বাধা দিচ্ছে। যদিও তিনি নির্দিষ্ট করে কারও নাম করেননি। অন্যদিকে, ভারত সরকার কিন্তু এই পক্ষপাতিত্বের অভিযোগকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। সরকার জানিয়েছে, Jio, Airtel এবং Starlink এই তিনটি সংস্থাই স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবার জন্য প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছে। পাশাপাশি এই সংস্থাগুলির অগ্রগতি মোটামুটি একই পর্যায়ে রয়েছে।
আরও পড়ুন: নতুন নিয়ম ঘোষণা করল EPFO, TDS এড়াতে এবার পূরণ করতে হবে এই ফর্ম
সব মিলিয়ে, ভারতের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে যে প্রতিযোগিতা বাড়তে চলেছে তা বলাই বাহুল্য। তবে Jio-র ১,৬০০ স্যাটেলাইট ও ২৩টি গ্রাউন্ড স্টেশন তৈরির পরিকল্পনা এখনও প্রস্তাবের পর্যায়েই রয়েছে। কবে এই নেটওয়ার্ক বাস্তবে চালু হবে এবং সাধারণ গ্রাহকরা কীভাবে পরিষেবা পাবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনও ঘোষণা করা হয়নি।