আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: দুর্গাপুজোয় (Durga Puja) দক্ষিণ কলকাতার (South Kolkata) সমস্ত ঠাকুর একদিনে দেখে ফেলতে চান? এখন থেকেই হাতছানি দিচ্ছে আলোকসজ্জিত পুজো মণ্ডপ (Pandals)? ইচ্ছে থাকলেও যানজট, পার্কিংয়ের সমস্যা এবং দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়ানোর চিন্তায় অনেকেই বুঝে উঠতে পারেন না ঠিক কীভাবে পরিকল্পনা করা উচিত। বিশেষ করে ষষ্ঠী থেকে নবমী, সন্ধ্যা নামার পর পরিচিত পুজোগুলিতে ভিড় বাড়লে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় পৌঁছতে বেশ অনেকটা সময় লেগে যায়। তাই পুজো পরিক্রমার আগে শুধু কোন কোন মণ্ডপ দেখবেন, তা ঠিক করলেই হবে না, কোন স্টেশনে নামবেন, কোথা থেকে হাঁটবেন এবং কখন অন্য পরিবহণের সাহায্য নেবেন, সেটাও ভেবে রাখা জরুরি।
ছোট রুটে বেশি পুজো দেখতে চাইলে কোন এলাকা বেছে নেবেন?
এক দিনে সব পুজো মণ্ডপ দেখে ফেলার পরিকল্পনা না করে, কাছাকাছি পুজোগুলিকে একই পরিকল্পনায় রাখলে সময় বাঁচতে পারে। দক্ষিণ কলকাতায় কালীঘাট, রাসবিহারী, গড়িয়াহাট এবং বালিগঞ্জের দিকের পুজোগুলিকে আলাদা ভাগে রাখলে যাতায়াতের মাধ্যম নির্বাচন করা সহজ হবে এবং একটি নির্দিষ্ট দিকের অনেকগুলি ঠাকুর এক সঙ্গে দেখা সম্ভব হবে।
কালীঘাট মেট্রো থেকে শুরু করলে বাদামতলা আষাঢ় সংঘ এবং কালীঘাটের আশপাশের পুজো দিয়ে পরিক্রমা শুরু করা যায়। সেখান থেকে ৬৬ পল্লি, দেশপ্রিয় পার্ক, সিংহী পার্ক ও ত্রিধারা সম্মিলনীর দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা করতে পারেন। তবে সব কটি মণ্ডপ একই দূরত্বে নয়। বিশেষ করে দেশপ্রিয় পার্ক ও ত্রিধারার দিকে যেতে বাড়তি হাঁটতে হতে পারে। ভিড়ের মধ্যে সময়ও কিছুটা বেশি লাগতে পারে। চেতলা অগ্রণীও দেখতে চাইলে সেটিকে একই দিনের পরিকল্পনায় যুক্ত করার আগে যাতায়াতের সময় যাচাই করে নিন।
অন্যদিকে, গড়িয়াহাট ও বালিগঞ্জের পুজো দেখতে চাইলে ম্যাডক্স স্কোয়ার, বাকুলবাগান, একডালিয়া এভারগ্রিন এবং বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনকে ঘিরে একে অন্য পরিকল্পনা করতে পারেন। ম্যাডক্স স্কোয়ারের জন্য যতীন দাস পার্ক মেট্রো স্টেশন ব্যবহার করা যায়। তবে স্টেশন থেকে মণ্ডপের দূরত্ব আনুমানিক ১.২ কিলোমিটার, অর্থাৎ প্রায় ১৮ মিনিট হাঁটতে হতে পারে। পুজোর ভিড় ও রাস্তার বিধিনিষেধের কারণে বাস্তবে আরও সময় লাগতে পারে।
রবীন্দ্র সরোবর থেকে মুদিয়ালি, তারপর সুরুচি সংঘ
রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো স্টেশন দক্ষিণ কলকাতার কয়েকটি পরিচিত পুজো দেখার জন্য কাজে লাগতে পারে। মুদিয়ালি ক্লাব স্টেশন থেকে তুলনামূলক কাছে, একটি ২০২৬ সালের রুট-গাইড অনুযায়ী, গেট ৪ দিয়ে বেরিয়ে প্রায় ৪৩০ মিটার হাঁটলে মণ্ডপে পৌঁছনো যায়। এরপর লেক গার্ডেন্সের দিকের পুজো দেখার পরিকল্পনা করা যেতে পারে।
সুরুচি সংঘ দেখতে চাইলে আলাদা পরিকল্পনা এবং একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন। মণ্ডপটি নিউ আলিপুরে অবস্থিত এবং রবীন্দ্র সরোবর স্টেশন থেকে প্রায় ১.২ কিলোমিটার দূরে বলে একটি গাইডে উল্লেখ রয়েছে। ফলে মুদিয়ালি, শিবমন্দির ও সুরুচি সংঘ কিন্তু একেবারে পাশাপাশি থাকা তিনটি মণ্ডপ নয়। হাঁটার পাশাপাশি প্রয়োজনে স্থানীয় পরিবহণের জন্য যানবাহনগুলির ব্যাপারেও খবর রাখুন।
শুধু মণ্ডপ নয়, ২০২৬ সালের থিমও হতে পারে পুজো পরিক্রমার আকর্ষণ
এবার দক্ষিণ কলকাতার কয়েকটি পুজোয় থিম ও শিল্পভাবনার বৈচিত্র্য বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিন্দুস্থান পার্কের মণ্ডপে দেশলাই কাঠি ব্যবহার করে ১৮৮৮ সালের পূর্ব লন্ডনের ‘ম্যাচগার্লস স্ট্রাইক’ এবং শিশুশ্রমের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। ৬৬ পল্লির ভাবনায় রয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও দেশাত্মবোধের উপস্থাপনা।
বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের ‘যোজন’ থিমে ব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত জিনিসপত্র দিয়ে শিল্পকর্ম তৈরির ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে। চেতলা অগ্রণীতে শ্রীকৃষ্ণের বিশ্বরূপ ও দেবীর মহাজাগতিক রূপের মেলবন্ধন দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে, সুরুচি সংঘের ‘উৎস’ থিমে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও অবদান তুলে ধরা হয়েছে। একডালিয়া এভারগ্রিনের মণ্ডপে রয়েছে সোমনাথ মন্দিরের আদল।
তাই থিম দেখতে আগ্রহী হলে শুধু মণ্ডপের সংখ্যা বাড়ানোর দিকে না তাকিয়ে পছন্দের কয়েকটি পুজো দেখার ক্ষেত্রে বেশি সময় দিন। এতে প্রতিটি মণ্ডপের শিল্পকর্ম ও উপস্থাপনা ভালোভাবে দেখার সুযোগ মিলবে।
পুজোর সময়ে রাস্তা বন্ধ, একমুখী যান চলাচল এবং পথচারীদের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা তৈরি হওয়ার কারণে যাতায়াতের সমস্যা হতে পারে। তাই যাত্রার দিন কলকাতা পুলিশের সর্বশেষ ট্রাফিক নির্দেশিকা দেখে তারপর বেরোনোই ভালো। গাড়ি নিয়ে গেলে পার্কিং পাওয়া যাবে ধরে না নিয়ে বিকল্প পরিকল্পনা রাখুন।
আরও পড়ুন: পুজোর আবহেই জামিন পেলেন সব্যসাচী দত্ত, তবে রয়েছে বিশেষ শর্ত
পুজোর মেট্রো পরিষেবা
মেট্রো রেলের বিশেষ পুজো পরিষেবা নিয়ে প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, ১৫ ও ১৬ অক্টোবর ব্লু লাইনে সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত পরিষেবার কথা জানানো হয়েছে। ১৭ থেকে ২০ অক্টোবর ব্লু ও গ্রিন লাইনে দুপুর ১টা থেকে পরের দিন ভোর ৪টে পর্যন্ত বিশেষ পরিষেবা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে পরিষেবার সময় আলাদা। অরেঞ্জ লাইনে ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর পরিষেবা বন্ধ থাকার কথাও প্রকাশিত হয়েছে। তবে প্রতিটি লাইনের সময়সূচি এক নয়। দক্ষিণ কলকাতার সব পুজো দেখার জন্য ব্লু লাইনই সব ক্ষেত্রে সবচেয়ে সুবিধাজনক হবে, এমনও নয়। গন্তব্য অনুযায়ী পার্পল লাইনের পরিষেবাও কাজে লাগতে পারে। তাই বেরোনোর আগে মেট্রো রেলের সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট লাইনের প্রথম ও শেষ ট্রেনের সময় যাচাই করে নিন। বিশেষ পরিষেবা চালু থাকলেও নিজের গন্তব্যের স্টেশনে শেষ ট্রেনের সময় আলাদা করে দেখে নিন।