আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: কলকাতা (Kolkata) ও হলদিয়া (Haldia) বন্দরের উপর পণ্য পরিবহণের চাপ কমাতে হুগলির (Hooghly) বলাগড়ে (Balagarh) মিনি বন্দর (Mini Port) তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছিল সরকার। এবার সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়নে আরও একধাপ এগোল বলাগড়। দুর্গাপুজোর (Durga Puja) আবহেই এই প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হলো। সোমবার, ১২ অক্টোবর বলাগড়ে প্রস্তাবিত বন্দরের সংযোগকারী রাস্তা ও সেতুর ভূমিপুজো হয়। এর মধ্যে দিয়েই প্রকল্প বাস্তবায়নে আশার আলো দেখছেন এলাকার বাসিন্দারা।
মিনি পোর্ট নিয়ে উদ্যোগী এলাকাবাসী
প্রায় ৫৩৯ কোটি টাকা ব্যয় করে এই বন্দর প্রকল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। হুগলির বলাগড়ের শ্রীপুর চর এলাকায় প্রায় ৯০০ একর জমি জুড়ে তৈরি হবে প্রস্তাবিত বন্দর। প্রকল্পের আওতায় একটি পোর্ট টার্মিনাল, দু’টি জেটি এবং প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগকারী রাস্তা ও সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। রাস্তা ও সেতু তৈরি হলে মূল সড়কপথের সঙ্গে বন্দরের যোগাযোগ অনেকটাই সহজ হবে। পাশাপাশি রেল ও অভ্যন্তরীণ জলপথের সঙ্গে সমন্বয় গড়ে উঠবে। এটাই পরবর্তীতে পণ্য পরিবহণের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে অনেকটাই সাহায্য করবে।
বলাই বাহুল্য, বলাগড়ে এই বন্দর তৈরির পরিকল্পনা নতুন নয়। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালে ওই এলাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ার উদ্দেশ্যে জমি নেওয়া হয়েছিল। সেই সময় রাস্তা ও সেতু নির্মাণের কাজও শুরু হয়। কিন্তু ২০০০ সালের ভয়াবহ বন্যায় ওই এলাকার পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তী সময়ে বিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাতিল হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন জমিটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়েছিল। এবার সেই এলাকাতেই বন্দর গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সিঙ্গুরে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রস্তাবিত নতুন করে উত্থাপন করেন বলেই সূত্রের খবর।
কলকাতা বন্দরের উপর দিনদিন চাপ বেরিয়ে যাচ্ছে। এই বন্দর চালু হলে কলকাতা বন্দরের উপর নির্ভরতা কিছুটা হলেও কমবে। বলাগড়ে নতুন পণ্য পরিবহণ কেন্দ্র গড়ে উঠলে নির্দিষ্ট কিছু পণ্য এই বিকল্প পরিকাঠামোর মাধ্যমে পরিবহণ করা সম্ভব হতে পারে। ফলে পণ্য সরবরাহের ব্যবস্থাও আরও কার্যকর করার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
প্রকল্পকে ঘিরে একাধিক কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসছে। প্রকাশিত প্রকল্প-সংক্রান্ত বক্তব্য অনুযায়ী, প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ১,৫০০ জনের এবং পরোক্ষভাবে ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে এই প্রকল্পের দরুন। বন্দরকে কেন্দ্র করে পরিবহণ, পণ্য ওঠানো-নামানো, গুদামজাতকরণ এবং অন্যান্য সহায়ক পরিষেবার ক্ষেত্রেও কাজের সুযোগ বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন: কালীঘাটে পুজো উদ্বোধনে মমতা, দেখেই ছুরি নিয়ে তেড়ে গেল মহিলা সিভিক! তারপর
১২ অক্টোবরের ভূমিপুজোর অনুষ্ঠানে বলাগড়ের বিধায়ক তথা রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার, হুগলির প্রাক্তন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়, জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদারি এবং সংশ্লিষ্ট দফতর ও বন্দর কর্তৃপক্ষের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী দু’বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হলে বলাগড়ের উন্নতিকরণের পাশাপাশি হুগলি জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এখন এই মিনি বন্দর প্রকল্প শেষ হতে কত দিন সময় লাগে এবং শেষ হওয়ার পর কতটা কার্যকরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় সেটাই দেখার বিষয়।