সহেলি মিত্র, কলকাতা: কলকাতার পর এবার মধ্যপ্রদেশে (Madhya Pradesh) এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে গেল। রবিবার ভোরে মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে শীতলা মাতা মন্দিরের কাছে একটি ধান বোঝাই ট্রাক ভক্তদের পিষে ফেলে বলে অভিযোগ। ঘটনায় কমপক্ষে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। এছাড়াও আহতের সংখ্যা ৪০ জন ছাড়িয়ে গেছে। তবে মৃত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তীব্র আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভক্তদের পিষে দিল ট্রাক
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধান বোঝাই একটি নিয়ন্ত্রণহীন ট্রাক পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ভক্তদের ভিড়ে ঢুকে পড়ে এবং ৫০ জনেরও বেশি মানুষকে পিষে ফেলে। এরপর ট্রাকটি মন্দিরের গেট ও বাইরের দেয়ালে ধাক্কা মারে। মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি রবিবার ভোররাত ঘটে। ট্রাকটি ছিন্নর থেকে আসছিল এবং এতে ধান বোঝাই ছিল। জানা গেছে, রাস্তার একটি খাড়া অংশে চালক গাড়িটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন, যে অংশে ভারী যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ ছিল।
ঘটনা প্রসঙ্গে গোয়ালিয়রের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (এসএসপি) ধর্মবীর সিং জানান, ট্রাকটি পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তায় থাকা ভক্তদের ধাক্কা দেয় এবং তারপর মন্দিরের বাইরের গেট ও দেয়ালে আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পর আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যু
এসএসপি ধর্মবীর সিং জানান, দুর্ঘটনার পর মোট ৪০ জনেরও বেশি লোককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যাদের মধ্যে ১৩ জন মারা গেছেন। কর্মকর্তাদের মতে, আহতদের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কারও কারও হাড় ভাঙাসহ গুরুতর আঘাত লেগেছে, আর অন্যরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে মোতায়েন থাকা দুই পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন।
গোয়ালিয়রের কালেক্টর রুচিকা চৌহান জানিয়েছেন যে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য যানবাহন পাঠানো হয়েছিল। তিনি আরও বলেন যে, নবরাত্রির সময় ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাস্তায় পুলিশের চেকপয়েন্ট ও ব্যারিকেড বসানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও ট্রাকটি কীভাবে নিষিদ্ধ পথে পৌঁছাতে পারল, তা জানতে তদন্ত চলছে। কালেক্টরের মতে, যানবাহনটি কীভাবে ব্যারিকেড অতিক্রম করেছিল এবং কী কারণে এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে।
আরও পড়ুনঃ চোরবাগানকাণ্ডে নাম জড়াল মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপোর! ‘কবে জেলে ঢোকাচ্ছেন?’ প্রশ্ন অভিষেকের
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ বোঝার জন্য আঞ্চলিক পরিবহন দপ্তর (আরটিও) থেকে একটি দল ট্রাকটির যান্ত্রিক পরিদর্শন করতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে এটি নির্ধারণ করার চেষ্টা করা হবে যে, যানবাহনটিতে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল, নাকি দুর্ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল। কালেক্টর জানিয়েছেন যে, হাসপাতালের মেডিকেল টিম আহতদের অবস্থা মূল্যায়নের জন্য সিটি স্ক্যান এবং এক্স-রে করছে। এই পরীক্ষাগুলোর ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী চিকিৎসা নির্ধারণ করা হচ্ছে।