আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (State Bank of India)-এর গ্রাহকদের তথ্য ডার্ক ওয়েবে প্রকাশিত হওয়ার ঘটনায় ইতিমধ্যেই দেশে যথেষ্ট উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে প্রায় ৩.৭৫ লক্ষ রেকর্ডের মধ্যে ৩,৮৯৭টি রেকর্ডে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য পাওয়া গিয়েছে। তবে তথ্য ফাঁসের প্রকৃত উৎস কী এবং ঘটনার সম্পূর্ণ পরিধি কতটা, তা এখনও তদন্তাধীন। এই পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে জমা টাকা কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে ব্যাঙ্কের বক্তব্য সামনে এসেছে।
SBI-এর সাইবার ঘটনার নেপথ্যে কারা?
২১ অক্টোবর ২০২৬-এ শেয়ারবাজারকে দেওয়া বিবৃতিতে SBI কর্তৃপক্ষ ব্যাঙ্কের কিছু তথ্য হারিয়ে যাওয়ার ও ফাঁস হওয়ার ঘটনা সামনে আনে। এর আগে ১৬ অক্টোবর ব্যাঙ্কটি তার থ্রেট ইন্টেলিজেন্স পরিষেবা প্রদানকারী, ডিফেন্স সাইবার এজেন্সি এবং CERT-In-এর কাছ থেকে সম্ভাব্য তথ্য ফাঁসের বিষয়ে সতর্কবার্তা পেয়েছিল। ডার্ক ওয়েবে পাওয়া রেকর্ডগুলির প্রাথমিক বিশ্লেষণ করে সেগুলিকে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে এই তথ্য কীভাবে বাইরে গেল, তার উৎস কোথায় এবং প্রকাশিত সব রেকর্ডের সত্যতা কতটা, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
ব্যাঙ্কের তরফে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে?
ঘটনাটি সামনে আসার পর SBI সাইবার ইনসিডেন্ট মোকাবিলার প্রোটোকল সক্রিয় করেছে। শুধু তাই নয়, CERT-In-এর অনুমোদিত একটি স্বাধীন সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তথ্যের সত্যতা যাচাই, কীভাবে তা বাইরে এসেছে এবং কতটা ক্ষতি হতে পারে, সেগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ২৩ অক্টোবর ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে যেসব গ্রাহকের তথ্য যুক্ত বলে শনাক্ত হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেককে ইমেল এবং WhatsApp-এর মাধ্যমে আলাদাভাবে জানানো হয়েছে।
আপনার অ্যাকাউন্টে জমা টাকা কি নিরাপদ?
গ্রাহকদের উদ্বেগ কমাতে SBI স্পষ্ট করেছে, তাদের অ্যাকাউন্টে জমা টাকা নিরাপদ রয়েছে। ব্যাঙ্কের বক্তব্য অনুযায়ী, এই ঘটনার ফলে তাদের মূল ব্যাঙ্কিং পরিষেবা, আর্থিক কর্মক্ষমতা বা ব্যবসার ধারাবাহিকতায় তেমন কোনও প্রভাব পড়েনি। অর্থাৎ, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশিত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও তার অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা চুরি হয়েছে। তবে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিন্ত হতে গেলে তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।।
গ্রাহকদের কী কী বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে?
ব্যক্তিগত তথ্য অন্যের হাতে পৌঁছলে তা ব্যবহার করে প্রতারকেরা ব্যাঙ্ককর্মী সেজে ফোন করতে পারে, ভুয়ো মেসেজ পাঠাতে পারে। তাই SBI গ্রাহকদের ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি:
- ব্যাঙ্ককর্মী পরিচয় দিলেও OTP, PIN ও পাসওয়ার্ড এই তিনটে জিনিস কাউকে জানাবেন না।
- সন্দেহজনক ফোন ও মেসেজ এড়িয়ে চলুন। অচেনা নম্বর থেকে আসা লিঙ্কে ক্লিক করবেন না এবং কোনও গোপন তথ্য দেবেন না।
- নিয়মিত ব্যাঙ্কের মেসেজ ও অ্যাকাউন্টের লেনদেন খেয়াল রাখুন। সন্দেহজনক লেনদেন দেখলে দ্রুত ব্যাঙ্ককে জানান।
- SBI-এর তরফে ইমেল বা WhatsApp-এ কোনও বার্তা পেলে আগে সেটির সত্যতা যাচাই করুন। প্রয়োজনে ব্যাঙ্কের সরকারি ওয়েবসাইট বা পরিচিত সরকারি যোগাযোগের মাধ্যমে নিশ্চিত হন।
আরও পড়ুন: IDBI-র পর আরও চারটি ব্যাংকের শেয়ার বিক্রি করছে কেন্দ্র, গ্রাহকদের উপর পড়বে প্রভাব?
SBI-এর বক্তব্য অনুযায়ী গ্রাহকদের জমা টাকা নিরাপদ এবং ব্যাঙ্কের পরিষেবা এই মুহূর্তে স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার এই ঘটনাকে একেবারেই হালকাভাবে নিলে চলবে না। সম্পূর্ণ ঘটনা না জানা পর্যন্ত তদন্ত বহাল থাকবে। গ্রাহকদেরও সতর্ক থাকতে হবে, কারণ ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে প্রতারণার চেষ্টা করা হতে পারে। সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লেই দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।