অনন্যা সরকার, তেলেঙ্গানা: ১৯৮৪ সালের মার্চ মাসে প্যারোলে (Parole) মুক্তি পাওয়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত (Life Imprisonment) এক আসামির তেলেঙ্গানার ওয়ারঙ্গল সেন্ট্রাল জেলে ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু তিনি আর ফেরেননি। প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ওই ব্যক্তি আইনের নাগালের বাইরে ছিলেন। শুধু তাই নয় একটি সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন, এমনকি তিনি ‘সেরা শিক্ষক’ পুরস্কারও পেয়েছেন। এতকিছুর পর ২০১৩ সালে সম্মানজনকভাবে অবসর গ্রহণের পর, অবশেষে ২০২৪ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই অদ্ভুত জেল পালানোর কাহিনী যেমন মানুষকে অবাক করছে, তেমনই প্রশাসনের নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
কী ঘটনা ঘটেছিল?
আইনি নথি অনুযায়ী, ১৯৮৩ সালে ওই ব্যক্তি হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন এবং তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। একই বছর ডিসেম্বর মাসে তিনি তিন মাসের প্যারোলে মুক্তি পান। ১৯৮৪ সালের মার্চ মাসে তার আত্মসমর্পণ করার কথা থাকলেও, তিনি আর জেলে ফিরে আসেননি। ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি পলাতক ছিলেন। অবশেষে ২০২৪ সালের ১৬ মে ওয়ারঙ্গল কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স তাকে গ্রেপ্তার করে ও কেন্দ্রীয় কারাগারে ফেরত পাঠায়।
গ্রেপ্তারের পর, কারা কর্তৃপক্ষ তার সাজার মেয়াদ থেকে পাওয়া ২৭ দিনের ছাড় বা রেমিশন বাতিল করে দেয় এবং আগামী তিন বছরের জন্য তার প্যারোল বা সাময়িক মুক্তির আবেদনের সুযোগও বন্ধ করে দেয়। তার স্ত্রী তেলেঙ্গানা হাইকোর্টে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, প্রায় ৪০ বছর পর এমন পদক্ষেপ নেওয়া অযৌক্তিক। তিনি জানান যে, তার স্বামী সরকারি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, এমনকি ২০০৪ সালে ‘সেরা শিক্ষক’ পুরস্কারও পেয়েছেন। ২০১৩ সালে অবসর গ্রহণ করেন। তবে বিচারপতি টি. মাধবী দেবী ওই বন্দির স্ত্রীর আবেদনটি খারিজ করে দেন।
আরও পড়ুন: হবে সরকারি প্রকল্প থেকে ব্যাঙ্কের যাবতীয় কাজ, বাংলায় বসছে ৭০ দিনের বিশেষ ক্যাম্প
আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানায় যে, একজন বন্দি ৪০ বছর ধরে পলাতক থেকে সরকারি চাকরিতে বহাল থাকলে, তা অন্য বন্দিদেরও পালিয়ে যেতে ও প্রতারণার আশ্রয় নিতে উৎসাহিত করবে। আদালত এ-ও উল্লেখ করেছে যে, প্যারোলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি স্বেচ্ছায় কারাগারে ফিরে আসেননি, বরং তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে গ্রেপ্তারি এড়িয়ে গেছেন ও নিজের অপরাধের তথ্য গোপন করে সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছেন।
সরকার পক্ষ যুক্তি দেয় যে, প্যারোল কোনো বন্দির সংবিধিবদ্ধ অধিকার নয়। প্যারোলে থাকাকালীন তিনি পালিয়ে যাওয়ায় তাকে ধরার জন্য একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্সও গঠন করা হয়েছিল। আদালত আরও নিশ্চিত করে যে, যেহেতু তার অপরাধের রায় এখনও বহাল রয়েছে, তাই আইনত তাকে সাজা ভোগ করতেই হবে। তবে, এই ঘটনাটি কারা প্রশাসনের নজরদারি ও তদারকি ব্যবস্থায় বিদ্যমান দুর্বলতাগুলোকে প্রকাশ্যে এনেছে। আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করার ও প্যারোলে মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দীদের কড়াভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য একটি কার্যকর ট্র্যাকিং সিস্টেম বাস্তবায়িত করার নির্দেশ দিয়েছে।