আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের (Government of West Bengal) জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলির মধ্যে অন্যতম হল জনকল্যাণ শিবির বা সেবা সেতু অভিযান (Seva Setu Camp)। মূলত রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে সহজে পৌঁছে দেওয়াই এই শিবিরের উদ্দেশ্য। সরকারি দফতরে বারবার যাতায়াত না করে একই জায়গায় একাধিক প্রকল্পের জন্য আবেদন, নথি যাচাই, পুরনো আবেদনের সংশোধন এবং পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের সুযোগ পান উপভোক্তারা। বিশেষ করে যাঁরা কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বা আগে আবেদন করতে পারেননি, তাঁদের কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ। পুজো শেষ হতেই ফের জনকল্যাণ শিবির আয়োজন করতে চলেছে রাজ্য সরকার।
কী কী পরিষেবা পাওয়া যাবে?
- বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে নতুন করে আবেদন ও নাম নথিভুক্ত করার সুযোগ।
- আগে জমা দেওয়া আবেদনপত্রের ভুল সংশোধন এবং আটকে থাকা আবেদনের নথি যাচাই।
- আধার কার্ডের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সংযুক্তিকরণ সংক্রান্ত সহায়তা।
- ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরকারি প্রকল্পের টাকা পেতে সমস্যা হলে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই।
- বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের যোগ্যতা, আবেদন পদ্ধতি এবং প্রয়োজনীয় নথি সম্পর্কে সরাসরি প্রশাসনিক সহায়তা মিলবে।
কারা এই শিবির থেকে সুবিধা পাবেন?
- যে সমস্ত মহিলা এখনও অন্নপূর্ণা যোজনায় নাম নথিভুক্ত করতে পারেননি।
- যাঁরা বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা ও বিশেষভাবে সক্ষমদের ভাতার জন্য আবেদন করতে চান।
- যে সমস্ত কৃষক পিএম কিষান সম্মান নিধি প্রকল্পের সুবিধা পেতে চান।
- ছাত্রছাত্রী ও তরুণ-তরুণীরা, যাঁরা বিভিন্ন সরকারি শিক্ষাবৃত্তি বা শিক্ষা সংক্রান্ত প্রকল্পে আবেদন করতে চান।
- যাঁদের আগের আবেদনপত্র আটকে রয়েছে অথবা প্রয়োজনীয় নথির অভাবে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাননি, তাঁরাও এই শিবিরে গিয়ে সমস্যার কথা জানাতে পারবেন।
কোন কোন প্রকল্পে নতুন করে আবেদন করা যাবে?
আগের শিবিরের পরিষেবা তালিকা অনুযায়ী, একাধিক কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি প্রকল্পে আবেদন ও নথি সংশোধনের সুযোগ ছিল। আশা করা হচ্ছে এইবারেও তার অন্যথা হবে না। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য–
- অন্নপূর্ণা যোজনা।
- বার্ধক্য ভাতা।
- বিধবা ভাতা।
- দিব্যাঙ্গ ভাতা।
- পিএম কিষান সম্মান নিধি।
- আয়ুষ্মান ভারত স্বাস্থ্য প্রকল্প।
- কন্যাশ্রী ও বিভিন্ন সরকারি শিক্ষাবৃত্তি।
- স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড।
- প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা।
- কৃষক ও শ্রমিকদের জন্য বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প।
তবে নতুন পর্যায়ের শিবিরে কোন কোন প্রকল্পের আবেদন গ্রহণ করা হবে, তা চূড়ান্ত সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
কী কী নথি সঙ্গে রাখতে হবে?
শিবিরে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় নথিপত্রের আসল ও জেরক্স কপি গুছিয়ে রাখা ভালো। সাধারণভাবে যে নথিগুলি প্রয়োজন হতে পারে–
- আধার কার্ড।
- ভোটার কার্ড।
- রেশন কার্ড।
- ব্যাঙ্কের পাসবইয়ের প্রথম পাতার জেরক্স।
- সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।
- সচল মোবাইল নম্বর।
- জাতিগত শংসাপত্র, যদি প্রযোজ্য হয়।
- শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র ও মার্কশিট, শিক্ষা সংক্রান্ত প্রকল্পের ক্ষেত্রে।
- জমির দলিল বা পর্চা, কৃষি ও জমি সংক্রান্ত প্রকল্পের ক্ষেত্রে।
আরও পড়ুন: ১৫ বছর পর রেলের প্রজেক্টে জমি অধিগ্রহণ, পালাবদলের পর খুলল পুরুলিয়াবাসীর কপাল
কবে বসতে চলেছে এই জনকল্যাণ শিবির?
গত মাসে অর্থাৎ অক্টোবরের ২ তারিখ থেকে ৪ তারিখ পর্যন্ত টানা তিন দিন রাজ্যজুড়ে সেবা সেতু অভিযান বা জনকল্যাণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। ২ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ওই কর্মসূচিতে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের পরিষেবা দেওয়া হয়। এবার ফের নভেম্বরের শেষ অথবা ডিসেম্বর মাসে নতুন করে জনকল্যাণ শিবির আয়োজনের কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, গ্রাম পঞ্চায়েত ও পুরসভা স্তরে এই শিবির বসবে। তবে এই মাসে ঠিক কবে সেবা সেতু ক্যাম্পের আয়োজন করা হবে, তা এখনও চূড়ান্তভাবে জানানো হয়নি। খুব শীঘ্রই মাইকিং করে স্থানীয় প্রশাসনের তরফে শিবিরের দিনক্ষণ জানিয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি কোন এলাকায় এবং ঠিক কোন স্থানে এই শিবির বসবে, সেই তথ্যও সাধারণ মানুষকে জানিয়ে দেওয়া হবে।