আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: হুগলির (Hooghly) গোঘাটের (Goghat) কানালদিহিতে মর্মান্তিক ঘটনা। প্রাণ গেল ১৬ বছরের এক নাবালকের। অভিযোগ, রাজনৈতিক আক্রোশের জেরেই খুন করা হয়েছে ওই কিশোরকে। মৃতের কাকা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগ উঠছে, কাকাকে কাবু করতে না পেরে তাঁর ১৬ বছরের ভাইপোকে নিশানা করা হয়েছে। কাকার রাজনৈতিক পরিচয়ই কি কাল হয়ে দাঁড়াল কিশোরের জীবনে? বিজেপি করার আক্রোশেই কি বাড়ির একমাত্র ছেলেকে নিশানা করা হল? এই সমস্ত প্রশ্নকে ঘিরেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু
মৃত কিশোরের নাম ঋতম কুশারি। ১৬ বছরের এই মাধ্যমিক পড়ুয়ার রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। অভিযোগ, প্রথমে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। এরপর নেশাগ্রস্ত করে দিঘির জলে ফেলে দেওয়া হয়। এমনই অভিযোগ উঠেছে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। পরে গ্রামবাসীরা তাকে উদ্ধার করে আরামবাগের প্রফুল্লচন্দ্র সেন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। অকালে প্রাণ হারায় ১৬ বছরের কিশোর।
সন্তানকে হারিয়ে পাথর হয়ে গিয়েছেন মা। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পনা করেই ছেলেকে খুন করা হয়েছে। কাকাকে মারতে না পেরে তাঁর ছেলেকে নিশানা করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। সন্তানহারা মায়ের কথায়, “ওরা সবাই মিলে আমার ছেলেটাকে মেরে দিল। কাকাকে মারতে পারেনি, আমার ছেলেটাকে মেরে দিল। ওরা কিছুদিন ধরেই ষড়যন্ত্র করছিল। সবাই মিলে প্ল্যান করে আমার ছেলেটাকে মেরে ফেলল। আমি শাস্তি চাই। যারা আমার ছেলেকে কেড়ে নিয়েছে, তাদের সবাইকে এনকাউন্টার করা হোক।”
তিনি আরও বলেন, “এমএলএ, মন্ত্রী সবাই যেন ওদের শাস্তি দেয়। যে বন্ধুগুলো ডেকে ওকে নিয়ে গিয়েছিল, তাদেরও যেন শাস্তি হয়। সকালে ওদের ধরে রাতে এনকাউন্টার করে দিক। আমার যেমন কোল খালি হয়েছে, ঠিক তেমন করে সেই সমস্ত মায়েদেরও কোল খালি হোক। যেন কেউ বেঁচে না থাকে।” পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে বিজেপি কর্মী কাকাকে বহুদিন ধরেই টার্গেট করা হচ্ছিল। কিন্তু বারবার নাগালের বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। সেই রাগ থেকেই পরিবারের একমাত্র ছেলেকে খুন করে দুষ্কৃতীরা।
আরও পড়ুন: ‘বন্দে ভারতের প্রযুক্তি যাচ্ছে বিদেশে, শীঘ্রই গোটা ট্রেনই হবে রফতানি’ জানালেন রেলমন্ত্রী
কিশোরের মৃত্যুর নেপথ্যে রাজনৈতিক আক্রোশ রয়েছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কাকার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই কি এই ঘটনা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবারের অভিযোগ এবং মায়ের বক্তব্য ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।