আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: প্রযুক্তি ও পরিকাঠামোগত উন্নতির দিক থেকে ক্রমশ এগিয়ে চলেছে ভারত। একসময় উন্নত প্রযুক্তির উদাহরণ দিতে হলে বিদেশের বিভিন্ন দেশের কথা উঠে আসত। কিন্তু বর্তমানে ভারত নিজেই নিজের সাফল্যের উদাহরণ তৈরি করছে। রেল পরিষেবার আধুনিকীকরণ তারই অন্যতম নিদর্শন। দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত ও উন্নত করে তুলতে এবার বুলেট ট্রেন প্রকল্পের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা সামনে এসেছে। রবিবার বেঙ্গালুরু-মুম্বই বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেসের উদ্বোধনী পরিষেবার সূচনা করেন অশ্বিনী বৈষ্ণব। সেই অনুষ্ঠানেই বেঙ্গালুরু-পুণে (Bengaluru-Pune) বুলেট ট্রেন (Bullet Train) করিডর নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন রেলমন্ত্রী।
কী রয়েছে তাঁর পরিকল্পনায়?
প্রস্তাবিত বেঙ্গালুরু-পুণে বুলেট ট্রেন করিডরটি কর্ণাটকের বিস্তীর্ণ অংশকে যুক্ত করবে। বেঙ্গালুরু থেকে যাত্রা শুরু করে হুব্বাল্লি হয়ে পুণে পৌঁছবে এই হাইস্পিড রেলপথ। অর্থাৎ কর্ণাটকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকাকে দ্রুতগতির রেল পরিষেবার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই নির্দিষ্ট বেঙ্গালুরু-পুণে করিডরের চূড়ান্ত রুট, স্টেশনের সংখ্যা, ভাড়া কিংবা পরিষেবা শুরুর দিনক্ষণ নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি।
বেঙ্গালুরু-পুণে রুট নিয়ে বলতে গিয়ে অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিমধ্যেই ৪০০০ কিলোমিটার বুলেট ট্রেন করিডরের অনুমোদন দিয়েছেন। আগামী কয়েক বছরে আরও ৩০০০ কিলোমিটার বুলেট ট্রেন করিডরের ঘোষণা করা হতে পারে। সেই সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় বেঙ্গালুরু-পুণের মতো একাধিক নতুন রুট জায়গা পেতে পারে। ১ নভেম্বর বেঙ্গালুরুতে বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই সম্ভাবনার কথা জানান রেলমন্ত্রী।
এদিকে দক্ষিণ ভারতের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বুলেট ট্রেন করিডরের অনুমোদনের কথা জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী। এই প্রস্তাবিত করিডর বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, অমরাবতী এবং চেন্নাইকে যুক্ত করবে। এর ফলে দক্ষিণ ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তি কেন্দ্রগুলির মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। অশ্বিনী বৈষ্ণবের দেওয়া সম্ভাব্য সময়সূচি অনুযায়ী, বুলেট ট্রেনে বেঙ্গালুরু থেকে চেন্নাই পৌঁছতে সময় লাগবে মাত্র ৭৩ মিনিট। অন্যদিকে, বেঙ্গালুরু থেকে হায়দরাবাদ যেতে সময় লাগতে পারে ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট। তাঁর মতে, এই প্রকল্প দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করবে।
শুধু বুলেট ট্রেন নয়, বন্দে ভারত পরিষেবা নিয়েও একাধিক পরিকল্পনার কথা সামনে এনেছেন রেলমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বেঙ্গালুরু-মঙ্গলুরু বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চালু হতে চলেছে। উপকূলবর্তী কর্ণাটকের মঙ্গলুরু, উদুপি থেকে কারওয়ার ও গোয়া পর্যন্ত রেল যোগাযোগ উন্নত করার উপরেও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি বেঙ্গালুরু থেকে উত্তর কর্ণাটকের বিভিন্ন এলাকা হয়ে হুব্বাল্লি, পুণে এবং মুম্বই পর্যন্ত দ্বিতীয় একটি বন্দে ভারত স্লিপার পরিষেবা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, ১৬ কামরার প্রথম বেঙ্গালুরু-মুম্বই বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেসের উদ্বোধনী পরিষেবা বেঙ্গালুরুর স্যার এম বিশ্বেশ্বরাইয়া টার্মিনাল থেকে যাত্রা শুরু করেছে। ট্রেনটির মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাসে পৌঁছনোর নির্ধারিত সময় ছিল সোমবার সকাল ৬টা ১৫ মিনিট।
আরও পড়ুন: ‘বন্দে ভারতের প্রযুক্তি যাচ্ছে বিদেশে, শীঘ্রই গোটা ট্রেনই হবে রফতানি’ জানালেন রেলমন্ত্রী
অন্যদিকে, দেশের প্রথম স্বদেশি বুলেট ট্রেন তৈরির কাজও এগোচ্ছে। কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে ভারত আর্থ মুভার্স লিমিটেড বা BEML-এর কারখানায় মুম্বই-আমদাবাদ হাইস্পিড রেল করিডরের জন্য এই ট্রেন তৈরি হচ্ছে। দেশীয় প্রযুক্তি ও ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতার সঙ্গে উন্নত সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং যাত্রীদের আরামের বিষয়টিও মাথায় রাখা হচ্ছে। ভারতীয় পরিবেশ ও পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই ট্রেনটির নকশা তৈরি করা হচ্ছে। ফলে রেল যোগাযোগের আধুনিকীকরণের পাশাপাশি হাইস্পিড রেল প্রযুক্তিতেও আত্মনির্ভর হওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগোচ্ছে দেশ।