অনন্যা সরকার, কলকাতা: আজকের দিনে দাঁড়িয়েও ভারতের অনেক স্থানে বিশুদ্ধ পানীয় জল পাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। শহরের বিত্তশালী পরিবারগুলো প্রায়শই বাড়িতে ১০,০০০ টাকা বা তার বেশি মূল্যের ‘রিভার্স অসমোসিস’ (RO) পিউরিফায়ার ব্যবহার করে থাকেন, কিন্তু দেশের অর্ধেকেরও বেশি মানুষের কাছে এই প্রযুক্তি এখনো একটি বিলাসিতা। গ্রামের মানুষ এবং অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে টাটা গ্রুপ (Tata Group) বাজারে এনেছে ‘টাটা স্বচ্ছ‘ (Tata Swach) নামের একটি সাশ্রয়ী জল বিশুদ্ধকরণ ব্যবস্থা, যা বিদ্যুৎ ছাড়াই কাজ করে।
কীভাবে কাজ করে ‘টাটা স্বচ্ছ’?
এই ফিল্টারটির মূল উপাদান হলো ন্যানো-সিলভার মিশ্রিত ধানের তুষের ছাই। এই প্রযুক্তিটি জলে থাকা ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। ওপরের অংশে জল ঢাললে অভিকর্ষ বলের প্রভাবে তা ফিল্টারের মধ্য দিয়ে নিচের প্রকোষ্ঠে জমা হয়, এর জন্য কোনো বিদ্যুৎ বা পাইপলাইনের সংযোগের প্রয়োজন পড়ে না।
এই ফিল্টারে একটি যান্ত্রিক ‘লাইফ ইন্ডিকেটর’ রয়েছে, যা ব্যবহারের সময় ধীরে ধীরে নীচের দিকে নামতে থাকে এবং ফিল্টারটির কার্যক্ষমতা আর কতটুকু অবশিষ্ট রয়েছে, তা বাইরে থেকে নির্দেশ করে। ফিল্টারের আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে গেলে একটি ‘অটো-শাট-অফ’ বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা জলপ্রবাহকে থামিয়ে দেয়। এর ফলে মেয়াদোত্তীর্ণ ফিল্টারের মধ্য দিয়ে জল প্রবাহিত হতে পারে না। যদিও এটিকে শতভাগ স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রদানকারী হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়।
আরও পড়ুন: প্রকল্পের টাকা নিয়েও বাড়ি তৈরি না করার অভিযোগ, এবার হবে এফআইআর
তবে, কম দাম, বিদ্যুৎ খরচের অনুপস্থিতি এবং সহজে বহন করার সুবিধা – এই পিউরিফায়ারটির তিনটি সবচেয়ে ইতিবাচক দিক। এটি বাড়ির যেকোনো জায়গায়, এমনকি বিদ্যুৎ সংযোগ নেই এমন প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ব্যবহার করা যায়। তবে বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয় না বলে যে এটিকে রক্ষণাবেক্ষণও করতে হবে না, তা কিন্তু নয়। ফিল্টারটি নিয়মিত পরিষ্কার করা ও নির্দিষ্ট সময় অন্তর তা পরিবর্তন করা জরুরি।
সাশ্রয়ী মূল্যের প্রযুক্তি ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সমন্বয়ে তৈরি হওয়া ‘টাটা স্বচ্ছ’ নিরাপদ পানীয় জলকে সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজলভ্য করে তোলার ক্ষেত্রে টাটা গ্রুপের একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ।