প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ক্ষমতা হারিয়ে চরম অপমানে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন কৃষ্ণনগর দক্ষিণের প্রাক্তন বিধায়ক উজ্জ্বল বিশ্বাস (Ujjwal Biswas)। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন কারামন্ত্রী। তেমনটাই ইঙ্গিত দিলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। নিজের ফেসবুক পোস্টে প্রাক্তন মন্ত্রীর ছবি পোস্ট করে তাঁর শারীরিক অবস্থা (Ujjal Biswas Health Crisis) নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন তিনি। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই উজ্জ্বল বিশ্বাসের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
অসুস্থ উজ্জ্বল বিশ্বাস
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী আজ অর্থাৎ বুধবার, দুপুরে মমতাপন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ, তাঁর ফেসবুক পোস্টে প্রাক্তন তৃণমূল মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসের ছবি শেয়ার করে লিখেছেন যে, “প্রাক্তন মন্ত্রী ও তৃণমূল নেতা উজ্জ্বল বিশ্বাসের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। ভোটের ফলের পর তাঁর উপর যে অকারণ অসভ্যতা, অপমান, গ্রেপ্তার, বন্দিজীবনের ঝড় গেছে, শারীরিক ও মানসিকভাবে তিনি সম্ভবত সামলাতে পারেননি। উজ্জ্বলদা সেরে উঠুন।” এরপরই সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
অবৈধভাবে ত্রাণ মজুতের অভিযোগ মন্ত্রীর বিরুদ্ধে
কৃষ্ণনগর দক্ষিণের প্রাক্তন বিধায়ক তথা মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর অনুগামীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতি মুহূর্তে মন্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে চলেছে মমতার দল। যদিও মন্ত্রীর ঠিক কী হয়েছে সেই নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আপডেট পাওয়া যায়নি। কয়েক মাস আগে অবৈধভাবে ত্রাণ মজুতের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন কারামন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস। অভিযোগ ছিল যে তাঁর গোডাউন থেকে নাকি প্রচুর ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছিল। আর তাতেই গ্রেফতার হন বর্ষীয়ান প্রাক্তন মন্ত্রী।
আরও পড়ুন: রাজ্যের সব সরকারি স্কুল ও দপ্তরে লাগাতে হবে নেতাজির ছবি, জারি নির্দেশ
অবৈধভাবে ত্রাণ মজুতের অভিযোগে সেই সময় প্রাক্তন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসকে স্থানীয়রা চড়-থাপ্পর ও ডিম ছোঁড়ার চেষ্টাও করেছিল। এমনকি সেই সময় হেনস্তার মুখে পড়েছিল প্রাক্তন মন্ত্রীর অনুগামীরা। যদিও প্রাক্তন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস সাফাই দিয়েছিলেন যে, “বছরে দুর্গাপুজোর সময় এবং ইদের সময় দুইবার সরকারি ত্রাণগুলো আমাদের কাছে আসে। যেহেতু ভোটের মধ্যে ইদ ছিল আর সেই ত্রাণগুলো বিলি করা সম্ভব হয়নি। তাই ত্রাণ গুলি প্রশাসনের দফতরে পাঠানোর চেষ্টা করছিলাম। তখনই বিজেপি এই মিথ্যে অভিযোগ করেছে।” তবে তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি।