অনন্যা সরকার, গাজিয়াবাদ: জীবনে অন্য স্বপ্ন দেখেও শিকড়ের টানে ফিরে এসেছেন অনেকে। গাজিয়াবাদের আকাঙ্ক্ষা সিংয়ের কাহিনীটিও (Success Story of Akanksha Singh) অনেকটা এরকম। পারিবারিক কৃষিকাজের দিকে না গিয়ে একজন সরকারি আমলা হওয়ার উদ্দেশ্যে ইউপিএসসি (UPSC)-এর জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন আকাঙ্ক্ষা। তবে, মাঝপথেই কৃষিকাজের প্রতি আন্তরিক টান অনুভব করেন এবং এটিকেই পেশা হিসেবে বেছে নেবেন বলে ঠিক করেন। তিনি তার জমিতে জৈব পদ্ধতিতে (Organic Farming) ১২টি প্রজাতির ফল এবং ১৫ জাতের সবজি চাষ করছেন। অরগ্যানিক পদ্ধতিতে উৎকৃষ্ট মানের ফসল উৎপাদনের জন্য কৃষি বিভাগ থেকেও সম্মানিত করা হয়েছে আকাঙ্ক্ষাকে।
UPSC-এর প্রস্তুতি ছেড়ে কৃষিকাজে মন
এক সাক্ষাৎকারে, ৩০ বছরের আকাঙ্ক্ষা সিং জানান যে তার বাবা গাজিয়াবাদের মুরাদনগরের নবিপুরের এক চাষী। ছোটবেলা থেকেই তিনি বাবাকে মাঠে কাজ করার পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত থাকতে দেখেছেন। আকাঙ্ক্ষা গণিতে এমএসসি (MSc) এবং তারপর ভূগোলে এমএ (MA) ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পড়াশোনা শেষ করে, সিভিল সার্ভিসে যোগদানের জন্য ইউপিএসসি-র প্রস্তুতি শুরু করেন তিনি। তবে, কিছুদিন পর তিনি বুঝতে পারেন যে সরকারি চাকরির থেকেও বেশি অনুরাগ তার কৃষিকাজের প্রতি রয়েছে।
আকাঙ্ক্ষা জানান, তিনি তার মামা রাহুল চৌধুরীর সঙ্গে নবিপুরে এক একর জমি লিজ নিয়ে একটি মডেল জৈব খামার বা অরগ্যানিক ফার্ম (Organic Farm) তৈরি করেছেন। চাষাবাদে সাফল্য অর্জনের জন্য তিনি গাজিয়াবাদের কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র থেকেও প্রশিক্ষণ নিয়েছেন আকাঙ্ক্ষা। এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে তিনি প্রাকৃতিক, জৈব চাষের পাশাপাশি চারাগাছ, বীজ ও মাটিকে কীভাবে উর্বর করা যায়, সে সম্পর্কে উন্নত কৌশল সম্পর্কে শিখেছেন। আকাঙ্ক্ষা তার মামার সাথে যৌথভাবে উৎকৃষ্ট মানের ফল ও সবজি চাষ করে মিরাট কৃষি মেলায় কৃষি বিভাগ থেকে অরগ্যানিক প্রোডাক্টের জন্য পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়া, গাজিয়াবাদের কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রও আকাঙ্ক্ষাকে পুরস্কৃত করেছে।
আকাঙ্ক্ষা সিং তার এক একরের মডেল অরগ্যানিক ফার্মে সবেদা, কমলা লেবু, কলা এবং আমলকী সহ মোট ১২ প্রজাতির ফল এবং ১৫ জাতের সবজি চাষ করে থাকেন। তিনি তার ফার্মে দেশি গরুও পালন করেন এবং একটি ভার্মিকম্পোস্ট ইউনিটও বানিয়েছেন। আকাঙ্ক্ষা সিং কম খরচে উদ্ভাবনী পদ্ধতি ব্যবহার করে অধিক ও উন্নত উৎপাদন অর্জনের জন্য একটি ইন্টিগ্রেটেড ফার্মিং মডেল গ্রহণ করেছেন। আকাঙ্ক্ষা সিং জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে তিনি নতুন কৌশল ব্যবহার করে উন্নত প্রজাতির চাষ করবেন, পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে আরও সচেষ্ট হবেন এবং জৈব ও প্রাকৃতিক চাষ সম্পর্কে কৃষিজীবী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করবেন।