প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: অন ক্যামেরায় অভিষেককে ক্রিমিনাল বলে কটাক্ষ করলেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র (Madan Mitra)! গতকাল, রবিবাসরীয় সন্ধেতে আচমকাই ফেসবুক লাইভে (Facebook Live) এসে অভিষেকের বিরুদ্ধে বোমা ফাটালেন ‘কালারফুল’ মদন মিত্র। যত সময় যাচ্ছে, তৃণমূলের অন্দরে কোন্দল যেন ক্রমেই বাড়ছে। আর এই কাদা ছোড়াছুড়ির মধ্যে টার্গেট হচ্ছেন অভিষেক (Abhishek Banerjee)। এমতাবস্থায় অভিষেককে রীতিমত হুঁশিয়ারি দিলেন মমতার একসময়ের কাছের দলীয় সঙ্গী মদন মিত্র।
ফেসবুক লাইভে হুঁশিয়ারি মদনের
গতকাল, রবিবার, ফেসবুক লাইভে অভিষেকের উদ্দেশে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র রীতিমত হুঁশিয়ারির সুরে বলেছিলেন যে, ‘‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলছি, আমাকে ধমকে-চমকে লাভ নেই। ডায়মন্ড হারবার মডেল দিয়ে সিপিএম, বিজেপিকে চমকালেও, আমাকে চমকানো যাবে না। লাভ হবে না। আমি ওসবে ভয় পাই না। দালাল বলা হচ্ছে? এই মদন মিত্রই শুধু দালালি করেনি কারও। পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে বেশি ঝাঁপিয়ে যে লড়েছে, তার নাম মদন মিত্র। ২৭ মাস জেলে থেকে বেরিয়ে এসেও আমি তিনগুণ ভোটে জিতেছি।” শুধু তাই নয় তিনি এও বলেন যে, “অভিষেক আপনি তো ক্রিমিনাল, সুপারি দিয়ে লোককে খুন করান।”
আরও পড়ুন: তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়ারা বাংলায় পড়তে-লিখতে না পারলেই শাস্তি শিক্ষকদের! বড় সিদ্ধান্ত
২১ জুলাই নিয়ে মমতাকে বিশেষ বার্তা মদনের
ফেসবুক লাইভে এদিন শুধু অভিষেককেই নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেছিলেন মদন। সতর্কের সুরে তিনি বলেছিলেন, “২১ জুলাই দুই শিবির দুটো মিছিল বের করবে। মনে রাখবেন, আপনাদের যেখানে সভা, সেটা চিফ মিনিস্টারের এলাকা। ওখানে যদি ২১ তারিখ সকাল থেকে বেশি বাড়াবাড়ি করেন, তাহলে গোলাগুলি চলতে পারে। বি কেয়ারফুল।” দলে থাকাকালীন যদিও দলনেত্রী বরাবর তাঁর সঙ্গে ভদ্র ব্যবহার করেছেন, তা উল্লেখ করেছেন তিনি। কিছুদিন আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে গিয়েছিলেন মদন মিত্র। যদিও এই বদল তাঁর কাছে স্বাভাবিক, তবে দলছাড়া নিয়ে অভিষেকের দিকে আঙুল তুলেছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন: অনশন প্রত্যাহারে রাজি সোনম ওয়াংচুক, তবে মানতে হবে ৩ শর্তের মধ্যে একটি
প্রসঙ্গত, একের পর এক তৃণম নেতা, বিধায়ক সকলেই দলের এই বেহাল দশার জন্য দায়ী করে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। যদিও সেই নিয়ে অভিষেক শুরুতে চুপ থাকলেও পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি চ্যালেঞ্জ করে বলেছিলেন যে, দলত্যাগীরা যদি তৃণমূলে ফিরে আসেন, তাহলে তিনি এক ঘণ্টার মধ্যে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেবেন। যদিও তাঁর এই মন্তব্যের পর কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তৃণমূলেরই একাংশ।