‘অর্থলোভ থাকলে মমতার টাকা নিতাম’ মন্দিরের প্রণামী কাণ্ডে মুখ খুললেন অভয়ার মা

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: প্রনামীর টাকা বাড়িতে পাঠানোর ঘটনায় এবার মুখ খুললেন পানিহাটির বিধায়িকা ওরফে অভয়ার মা রত্না দেবনাথ (Ratna Debnath)। সদ্য পানিহাটির ঐতিহ্যবাহী গঙ্গা তীরবর্তী শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু শ্রীমন্দিরের প্রণামী বাক্সের টাকা বাড়িতে পাঠানোর দাবি করে বিতর্কে জড়িয়ে ছিলেন আর জি কর কাণ্ডে নিহত চিকিৎসক পড়ুয়ার বাবা শেখররঞ্জন দেবনাথ! ভাইরাল হওয়া এক অডিও ক্লিপে রত্না দেবীর স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন মন্দিরের সেবায়েত বঙ্কুবিহারী বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সেই ঘটনায় মুখ খুললেন বিধায়িকা রত্না দেবনাথ।

মন্দিরের প্রনামীর টাকা পাঠানোর ঘটনায় কী বললেন পানিহাটির বিধায়িকা?

সম্প্রতি পানিহাটির প্রাচীনতম মন্দিরের সেবায়েত বঙ্কুবিহারী বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। ওই অডিও বার্তায় মন্দিরের সেবায়েতকে বলতে শোনা যায়, “বিধায়িকার স্বামী মন্দিরে এসে প্রথমেই জানতে চান ক্যাশ বাক্স এবং মন্দিরের চাবি কার কাছে আছে। এরপরই বিদায়িকার স্বামী বললেন, মন্দিরের ভেতরে এবং বাইরে যে কটা প্রণামির বাক্স আছে এবং সেগুলিতে যা টাকা পড়ে রয়েছে সবটাই তাঁর বাড়িতে জমা করে আসতে হবে।”

মঙ্গলবার, এমন বক্তব্যের পাশাপাশি ওই মন্দিরের সেবায়েত এও জানান, তিনি বহু বছর ধরে বংশ পরম্পরায় ওই মন্দিরে কাজ করছেন। বিধায়িকার স্বামী মন্দিরের সমস্ত টাকা তাঁর বাড়িতে দিয়ে আসতে বলেছেন। যদি সত্যি ওই অর্থ দিয়ে আসতে হয় তবে বিধায়িকাকে লিখিত দিয়ে যেতে হবে। মন্দিরের সেবায়তের এমন অভিযোগ অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছিলেন অভয়ার বাবা শেখররঞ্জন। তাঁর দাবি ছিল, “মন্দিরের অবস্থা খুবই খারাপ। সাধারণ মানুষের দানের টাকা যাতে মন্দিরের উন্নয়নে লাগে সেজন্যই একটা ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করতে বলেছিলাম।” তবে প্রণামির টাকা বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ একেবারে অস্বীকার করেছেন তিনি।

এবার সেই ঘটনায় মুখ খুললেন বিধায়িকা রত্না দেবনাথ নিজেই। সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় বিধায়িকা জানিয়েছেন, মন্দিরের দানের অর্থ উন্নয়নের কাজে লাগাতে ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে প্রণামীর অর্থ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার যে অভিযোগ উঠছে সেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং যুক্তিহীন। বিধায়িকার কথায়, “আমার কোনও দ্বিতীয় সন্তান নেই যে আমি এবং আমার স্বামী অর্থলোভ করব। অর্থলোভ যদি করারই হতো তাহলে বিজেপির পতাকা ধরতাম না। মমতা আমাকে কোটি টাকার প্রস্তাব দিয়েছিল!”

অবশ্যই পড়ুন: মোদীর মুখোশ পরে দোকান থেকে ৪০ টি মোবাইল চুরি, সিসিটিভিতে ধরা পড়ল দৃশ্য

এদিন বিজেপির বিধায়িকা আরও বলেন, “আমাকে এবং আমার স্বামীকে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে! পানিহাটিতে রাজনীতি করে টাকা কামানো তো শিখিয়েই গেছেন নির্মল ঘোষ ওরফে নান্টু ঘোষ। যদি টাকার লোভ থাকতো তো তাহলে মেয়েকে ডাক্তারি পড়তে পাঠাতাম না। আমার স্বামীর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে সেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এসব করে ভয় দেখিয়ে আমাকে প্রতিবাদের রাস্তা থেকে সরানো যাবে না।”

Leave a Comment