অনন্যা সরকার, কলকাতা: গত সপ্তাহে কেরালায় প্রবেশ করেছে বর্ষা (Monsoon)। আর আগামী দু-তিন দিনের মধ্যেই হিমালয় সংলগ্ন উত্তরবঙ্গের (North Bengal) কিছু অংশে ঢুকবে মৌসুমী বায়ু বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর। দক্ষিণবঙ্গে (South Bengal) কবে শুরু হবে বর্ষা, তা নিয়ে এখনও কোনও তথ্য সামনে আসেনি। তবে গতকাল (৭ জুন) মৌসম ভবন জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের উপকূল লাগোয়া উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের কিছু অংশে দু-তিন দিনের মধ্যে আরও কিছুটা এগিয়ে আসবে মৌসুমী বায়ু। এটি দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা আসার ইঙ্গিত বলে জানাচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা।
পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে এগিয়ে আসছে বর্ষা
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে যে বর্ষা রেখাচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের উপকূল থেকে মৌসুমী বায়ুর দূরত্ব কমেছে। সাধারণত ৫ জুন ও ১০ জুন তারিখে যথাক্রমে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা ঢুকে যায়। দিন পেরিয়ে গেলেও চিন্তা নেই, কারণ আবহাওয়া বিজ্ঞানে দিন সাতেকের এদিক-ওদিক স্বাভাবিক বলেই মনে করা হয়। ইতিমধ্যেই উত্তর-পূর্ব ভারতের অসম ত্রিপুরা ও অরুনাচল প্রদেশের কিছু অংশে মৌসুমী বায়ু প্রবেশ করেছে। মণিপুর নাগাল্যান্ড এবং মিজোরামের সম্পূর্ণ এলাকায় ঢুকে পড়েছে বর্ষা। পশ্চিমবঙ্গে বর্ষা শুরু হতে আর কয়েক দিনের অপেক্ষা মাত্র।
বর্ষা যত এগিয়ে আসছে এরাজ্যে বর্জ্যগর্ভ মেঘের সঞ্চার হতে শুরু করেছে, বৃষ্টিপাতও বাড়ছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান ডঃ হাবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, বর্ষা এগিয়ে আসার ফলে এর প্রভাব রাজ্য পড়তে শুরু করেছে। দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় বৃষ্টির মেঘ জমতে শুরু করায় ‘লাল’ ও ‘কমলা’ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির সাথে কলকাতা, উওর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হুগলি, নদিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, দুই বর্ধমান, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বিনামূল্যের যাত্রায় পড়া ভিড় মহিলাদের, চাপ কমাতে এই ১৪ রুটে বাড়ল বাসের সংখ্যা
জেলাগুলিতে কালো মেঘের প্রভাবে বৃষ্টি ও ঝড় গত দুদিন ধরেই চলছে। গতকাল সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত ৭৮.৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে পুরুলিয়ার শিমুলিয়ায়, যা ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে নদীয়ার কল্যাণীতে একই সময়ে ৫৭.৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই অল্পবিস্তর বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আগামী কয়েকদিনও এইরকম চলবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। বঙ্গোপসাগর থেকে খুব বেশি মাত্রায় জলীয় বাষ্প প্রবেশ করায় বজ্রগর্ভ মেঘের সঞ্চার হচ্ছে, যা বর্ষা শুরুর আগে খুবই স্বাভাবিক।