প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ক্ষমতাচ্যূত হওয়ার পরেই তৃণমূল কংগ্রেসে (All India Trinamool Congress) একের পর এক ভাঙনের খবর প্রকাশ্যে এসেই চলেছে। তবে এবার এই ভাঙনের প্রতিশোধ নিতে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) যেতে চলেছেন মমতা অভিষেক! এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। বিরোধী সাংসদদের উদ্দেশে তিনি জানান, ‘আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ঘটতে চলেছে বড় ঘটনা…’ আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায়।
সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হবে মামলা!
এনসিপিআই এর দল এখনও স্পিকার ওম বিড়লার কাছ থেকে মান্যতা পায়নি। তাই গতকাল, মঙ্গলবার, তৃণমূল কংগ্রেসের পরিচয়েই সংসদে যোগ দিয়েছিলেন বিক্ষুব্ধ ২০ জন সাংসদকে। আর এই নিয়ে শুরু হয়েছে আরেক অশান্তি। তাই এবার এই ২০ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদদের নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে কালীঘাটের তৃণমূল। ইতিমধ্যেই এনসিপিআই-এর বৈধতা তথা ২০ জন সাংসদের দলত্যাগ বিরোধী আইন লাগু হওয়ার বিষয় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করা নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন করেছেন কল্যাণ। আর সেই আবেদনে সবুজ সংকেত মিললেই নেওয়া হতে পারে বড় পদক্ষেপ।
কী বলছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়?
গতকাল, NCPI সাংসদদের NDA বৈঠকে যোগ দেওয়া নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন যে, “মির্জাফর একজন বেইমান ছিল, এখানে ২০ টা গদ্দার। সুপ্রিম কোর্টে এটা নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। যেদিন থেকে ওরা এনসিপিআই-তে গিয়েছে, সেদিন থেকেই ডিফেকশন লাগু হয়ে গিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছি আমি। দল যদি সিদ্ধান্ত নেয়। এরা ডিফেক্টেড এমপি। এরা সময় কাটানোর জন্য গিয়েছে দিল্লিতে। সংবিধান অনুযায়ী, যেদিন থেকে ওরা দল ছেড়েছে সেদিন থেকে আর মেম্বারশিপ নেই। এবং সুপ্রিম কোর্ট যদি সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সেটাই সিদ্ধান্ত হবে।”
বড় কিছুর ইঙ্গিত কল্যাণের
২১ জুলাইয়ের পরও বিদ্রোহী সাংসদ-বিধায়কদের জন্য কালীঘাটের দরজা খোলা আছে কি না, সেই প্রশ্ন সাংবাদিকরা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে করলে তিনি জানান, “আগামী সপ্তাহের পরই আশা করি একটা কিছু দেখতে পাবেন। একটু অপেক্ষা করুন। আগামী সপ্তাহ বা তার পরে আমার কাছে আসতে হবে।” এদিন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ক নিয়ে কটাক্ষের সুরে বলেছিলেন যে, “সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যা পোস্টার পড়েছে, ঠিক পোস্টার। ওর মতো বেইমান, গদ্দার, সুবিধাবাদী আছে নাকি। শরীরও ঠিক নেই, মাথারও ঠিক নেই।”
আরও পড়ুন: সোশ্যাল মিডিয়ায় মোদীকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট, X-কে বিশেষ নোটিস দিল দিল্লি পুলিশ
গত শুক্রবার আইনজীবী বদল করেছিল স্কুল সার্ভিস কমিশন। সব মামলা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এসএসসি-র মামলায় আর তিনি সওয়াল করবেন না। কল্যাণের বদলে এসএসসি-র তরফে নিয়োগ করা হয়েছে সিনিয়র আইনজীবী ইন্দ্রনীল রায়কে। তাঁর সঙ্গে জুনিয়র হিসাবে কাজ করছেন আইনজীবী সুনীত রায়। যদিও এই প্রসঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন যে, সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই রাজ্য এবং এসএসসি সংক্রান্ত সমস্ত মামলা থেকে তিনি সরে গিয়েছিলেন।