প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: জীবনে একবার অন্তত বিমানে ভ্রমণ করার ইচ্ছে কম বেশি সকলেরই থাকে। সেক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ট্রিপে গেলে অবশ্যই দরকার পড়ে পাসপোর্ট এবং ভিসার। তাইতো আগে থেকেই ভিসা, পাসপোর্টসহ একাধিক নথি নিয়ে চিন্তায় থাকতে হয়। কারণ তথ্যে কোনো ভুল ত্রুটি থাকলে সঙ্গে সঙ্গে বাতিল হয়ে যায় ভিসা (Visa)। কিন্তু জানেন কি (Unknown Facts) পাইলট এবং ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ক্রু সদস্যদের বাইরের দেশে ভ্রমণ করতে গেলে ভিসার (International Flight Crew Visa) প্রয়োজন হয় কিনা? তাহলে চলুন আমাদের আজকের প্রতিবেদনের মাধ্যমে সম্পূর্ণটা বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
ক্রু সদস্যদের জন্য আলাদা ভিসা লাগে?
পাইলট এবং ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ক্রু সদস্যরা কাজের জন্য প্রতি সপ্তাহে একাধিক দেশে ভ্রমণ করেন, সেক্ষেত্রে বার বার প্রশ্ন উঠে আসে তাদেরও কি প্রতিবার ভিসার প্রয়োজন হয়? আসলে আন্তর্জাতিক রুটে কাজ করা পাইলট এবং কেবিন ক্রুদের বিদেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে দেশভেদে আলাদা নিয়ম রয়েছে। অর্থাৎ অনেক দেশে যেমন ডিউটিতে থাকা ক্রু সদস্যদের জন্য বিশেষ ধরনের ভিসা বা প্রবেশের অনুমতি থাকে ঠিক তেমনই আবার বেশ কিছু দেশে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে ক্রু সদস্যদের ভিসা থেকে ছাড় দেওয়া হয়।
কিছু দেশের ক্ষেত্রে থাকে বিশেষ চুক্তি
আসলে ক্রু সদস্যরা কোনও দেশে ঘুরতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ফ্লাইটে যাতায়াত করেন না, তাঁরা নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালনের জন্য সেই দেশে যান এবং ওই বিমানবন্দরের কাছাকাছি হোটেলে সাময়িকভাবে অবস্থান করেন। তাই অনেক দেশের অভিবাসন ব্যবস্থায় তাঁদের জন্য আলাদা crew visa বা বিশেষ প্রবেশের ব্যবস্থা রয়েছে। যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি এয়ারলাইনের পাইলট ও কেবিন ক্রুদের জন্য ক্রু মেম্বার ভিসা রয়েছে এবং এটি ছাড়া প্রবেশ নিষিদ্ধ। একইভাবে, চীনেও সমস্ত ক্রু সদস্য এবং পাইলটদের জন্য সি ভিসা দেওয়া হয় এবং এটি ছাড়া যদি কেউ প্রবেশ করে তাহলে তাঁকে মোটা অংকের জরিমানা দিতে হতে পারে।
আরও পড়ুন: কেন যৌনপল্লির মাটি ছাড়া তৈরি হয় না দুর্গা প্রতিমা? রইল আসল কারণ
এছাড়াও বেশ কিছু দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তিও রয়েছে, যা পাইলট এবং ক্রু সদস্যদের ভিসা ছাড়াই এক দেশ থেকে অন্য দেশে ভ্রমণের সুযোগ করে দেয়, যেমন যুক্তরাজ্য এবং ব্রাজিলে। তাই ক্রু সদস্যরা কোন দেশের বিমানবন্দরে যাচ্ছেন, কোন এয়ারলাইনের হয়ে যাচ্ছেন এবং ডিউটিতে যাচ্ছেন নাকি ভ্রমণে যাচ্ছেন এসবের ওপর ভিসার নিয়ম নির্ভর করে।