“আপনারা ২০০ বছর নিয়ে এখন তাড়াহুড়ো কেন?” লন্ডনে গিয়ে বড় বার্তা প্রধান বিচারপতির

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: লন্ডনে দাঁড়িয়ে বড় বার্তা ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের (Surya Kant)। বিশ্বের ধনী দেশগুলিকে এবার যোগ্য জবাব দিলেন তিনি। পরিচ্ছন্ন শক্তির দিকে অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলির মধ্যকার অসমতার বিষয়টি উত্থাপন করেছেন এদিন সিজেআই। এমনকি তিনি জানান, শিল্পোন্নত দেশগুলি যেখানে পরিচ্ছন্ন শক্তি গ্রহণ করতে প্রায় ২ শতাব্দী বা ২০০ বছর সময় লাগিয়েছে, সেখানে প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা দেশগুলির কাছে মাত্র কয়েক দশকের মধ্যে নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা কীভাবে করা হয়?

লন্ডনে গিয়ে বড় বার্তা সূর্যকান্তের

শুক্রবার লন্ডনে কমনওয়েলথ সচিবালয়ে ৫৬টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সেখানে জলবায়ু ন্যায়বিচার বিষয়ক শীর্ষ সংলাপে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বড় কথা শোনান। তিনি বলেন, বর্তমানে শিল্পোন্নয়নের জন্য এগিয়ে চলা দেশগুলিকে দ্রুত নবায়নযোগ্য শক্তি গ্রহণ করার উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। তবে তা করতে ব্যর্থ হলেই সমালোচনার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। যে দেশগুলিকে এই দ্রুত পরিবর্তনের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে, তারা দুই শতাব্দী ধরে কয়লা এবং তেলের উপর ভিত্তি করেই তাদের শক্তি এবং অর্থনীতি গড়ে তুলেছে।

তিনি আরও জানান, উন্নয়নশীল দেশগুলি তাদের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইতিমধ্যেই বহু রকম চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। অবাস্তব গতিতে তাদেরকে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে ঠেলে দিলে তা সমাধানের পরিবর্তে তৈরি হতে পারে নতুন চ্যালেঞ্জ। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এবং হাইকোর্টগুলি পরিবেশ, বাস্তুতন্ত্র এবং বিপন্ন প্রজাতি রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এমনকি জাম্বিয়ার একটি হাইকোর্টের মামলা উল্লেখ করে সূর্যকান্ত জানান, সেখানে একটি তামার খনি কোম্পানিকে জলদূষণের জন্য দায়ী করা হয়েছিল। কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলি পরিচ্ছন্ন শক্তিতে রূপান্তর সহজ করার জন্য একে অপরের থেকে শিখতে পারে।

আরও পড়ুন: ছ’মাস ধরে নিখোঁজ মেয়ে, হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর অপেক্ষায় অসহায় বাবা

প্রধান বিচারপতি বলেন, যখন কোনও দেশের আদালত জলবায়ু সম্পর্কিত কোনও সমস্যার সম্মুখীন হয়, তখন প্রতিটি দেশে নিজস্ব আইনের পরিভাষা তৈরি করার কোনও প্রয়োজন পড়ে না। আদালতগুলিকে পরিবেশ সুরক্ষাকারী সমাধান খুঁজে বের করতে উদ্যোগ নিতে হয়। পরিবেশ সুরক্ষা এবং উন্নয়নকে সবসময় দুটি পৃথক পথ হিসেবে দেখানো উচিত নয়। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের সামনে আসা একটি মামলার কথা উল্লেখ করে তিনি জানিয়েছেন, আধাসামরিক কর্মীদের জন্য একটি সুপার স্পেশালিস্ট হাসপাতালে যাওয়ার পথ সুগম করতে রাস্তা প্রশস্ত করার সময় বিপুল সংখ্যক গাছ কাটার অভিযোগে কর্মকর্তাদের অভিযুক্ত করা হয়েছিল। তবে আদালত কর্মকর্তাদের পুরস্কৃতও করতে চায় না, আবার আহত সৈন্যদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স চলাচলেও বাধা দিতে চায় না।

Leave a Comment