আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: কৃষ্ণনগরের তৃণমূল (Trinamool Congress) সাংসদ মহুয়া মৈত্রের (Mahua Moitra) সার্কিট হাউসে (Circuit House) থাকা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কে এবার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ জানিয়েছে, নদিয়া জেলায় সফরের আগে মহুয়া মৈত্রকে এক দিন আগে জেলা প্রশাসনকে জানাতে হবে। এরপর নির্ধারিত প্রোটোকল মেনে তাঁর থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। সাংসদ ও বিধায়কদের সার্কিট হাউসে থাকার জন্য তিন থেকে চার দিন আগে জানানোর যে নির্দেশিকা জারি হয়েছিল, তাতে সংশোধন এনেছে আদালত।
কীভাবে শুরু হয় এই বিতর্ক?
বিতর্কের সূত্রপাত গত ১৪ অগস্টের রাতে। মহুয়া মৈত্রের অভিযোগ, কৃষ্ণনগরের সরকারি সার্কিট হাউসে তাঁর জন্য ঘর বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে মাঝরাতে সেই ঘর ছেড়ে দিতে বলা হয়। পরে ১ সেপ্টেম্বর নদিয়ার জেলাশাসকের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয় যেখানে বলা থাকে, সাংসদ ও বিধায়কদের সফরের আগে অন্তত তিন থেকে চার দিন সময় হাতে রেখে প্রশাসনকে জানাতে হবে তবেই ঘর পাওয়া যাবে। এই বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন মহুয়া। তাঁর বক্তব্য ছিল, জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচনী এলাকায় কাজ করতে গেলে এভাবে অতিরিক্ত আগাম নোটিসের বাধ্যবাধকতা তৈরি করা কি উচিত?
শুক্রবারের শুনানিতে নদিয়ার জেলাশাসকের চিঠি নিয়ে প্রশ্ন তোলে শীর্ষ আদালত। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর পর্যবেক্ষণ, চিঠিটির প্রথম অনুচ্ছেদ থেকেই প্রতিহিংসামূলক মনোভাবের ইঙ্গিত মিলছে। আদালত আরও জানায়, এ ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা মেটাতে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত আসার প্রয়োজন হল কেন? একটি সহজ স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা SOP তৈরি করলেই সমস্যার সমাধান করা যেত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের পরামর্শ, এক সপ্তাহ বা দশ দিন আগে জানানোর বদলে আট ঘণ্টা অথবা এক দিন আগে নোডাল অফিসারের মাধ্যমে জানালেই যথেষ্ট। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে বিচারপতি বাগচী বলেন, “আমরা চাই আপনি এটি প্রত্যাহার করে নিন।”
রাজ্যের তরফে তুষার মেহতা আদালতকে জানান, ঘটনার সময় সার্কিট হাউসে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছিল এবং দু’টি ঘরে সরকারি আধিকারিকেরা ছিলেন। তাঁর দাবি, মহুয়া মৈত্রকে ঘর ছেড়ে দেওয়ার জন্য কোনও আধিকারিক সরাসরি নির্দেশ দেননি। বরং তাঁকে অন্য একটি সরকারি অতিথিশালায় যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, মহুয়ার আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন জানান, প্রায় দশ বছর ধরে মহুয়া মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টার আগাম নোটিসেই সার্কিট হাউসে ঘর পেয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ওই রাতে অন্য সরকারি আধিকারিকেরা ঘরে থাকলেও তাঁদের সরে যেতে বলা হয়নি। শুধুমাত্র ঘরের প্রাপ্যতার যুক্তি দেখিয়ে জনপ্রতিনিধিকে বঞ্চিত করা যায় না বলেও সওয়াল করেন তিনি।
আরও পড়ুন: ৪ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস লড়াই! মাঝ আকাশে মৃত্যুর মুখ থেকে যাত্রীকে বাঁচালেন বাঙালি চিকিৎসক
এদিকে, মহুয়া মৈত্রের আবেদনে উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসনিক অসহযোগিতার অভিযোগও উঠে এসেছে। তাঁর আইনজীবীর দাবি, ২০২৬ সালের মে মাসের পর থেকে প্রশাসনের সহযোগিতার অভাবে ১৮টি প্রকল্প এখনও পর্যন্ত আটকে রয়েছে। আদালত এই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা জানিয়েছে। তবে তাতেও সমস্যা না মিটলে মহুয়া সংশ্লিষ্ট হাই কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারবেন বলে জানিয়েছে বেঞ্চ। ফলে সার্কিট হাউসে থাকার সমস্যা আপাতত মিটমাট হলেও উন্নয়নমূলক কাজের অভিযোগের নিষ্পত্তি এখনও বাকি।