আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: রাজ্য রাজনীতিতে বিজেপি ও তৃণমূলের সংঘাত নতুন কিছু নয়। রাজনৈতিক আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের পাশাপাশি দুই শিবিরের নেতাদের বক্তব্যেও বারবার উঠে এসেছে তীব্র কটাক্ষ। সেই রাজনৈতিক তরজায় নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে CJP (Cockroach Janata Party)। এই ‘আরশোলা’, ‘ছারপোকা’দের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে ফের মুখ খুললেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। প্রশাসনের বিরুদ্ধে তাদের আওয়াজ রুখতে নতুন পরিকল্পনার কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী।
কী বলছেন শুভেন্দু?
শিক্ষাই মানুষের মতাদর্শ পাল্টাতে পারে। তাই এবার ছাত্রছাত্রীদের ছোটবেলা থেকেই রাষ্ট্রবাদী ভাবনায় শিক্ষিত করার পরিকল্পনা নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, স্কুলস্তর থেকেই নির্দিষ্ট কিছু কর্মসূচির মাধ্যমে পড়ুয়াদের মধ্যে দেশ, ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
শুভেন্দু অধিকারীর প্রস্তাব, ছাত্রছাত্রীদের রাষ্ট্রবাদী করে তুলতে প্রতি বছর অন্তত তিন দিন বিতর্ক, কুইজ প্রতিযোগিতা এবং তাৎক্ষণিক বক্তৃতার মতো কর্মসূচি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের অন্তর্ভুক্ত করা হোক। তাঁর কথায়, “ছাত্রছাত্রীদের রাষ্ট্রবাদী করার জন্য প্রত্যেক বছর অন্তত তিন দিন বিতর্ক, কুইজ প্রতিযোগিতা ও তাৎক্ষণিক বক্তৃতার মতো কর্মসূচিগুলিকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে আনতে হবে।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষিত হলে তবেই এই সমস্ত আরশোলা ছারপোকাদের হিট স্প্রে দিয়ে ঠান্ডা করা যাবে।
এদিন বাম ও তৃণমূলকে নিশানা করেও একাধিক মন্তব্য করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ বাম শাসন এবং তৃণমূলের শাসনকালে রাজ্যের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক উপেক্ষিত হয়েছে। এনসিসি-র প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “৩৪ বছরের নাস্তিক ও ১৫ বছরের জামাতিরা ঐতিহ্য, সংস্কৃতি… এনসিসি তুলে দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এনসিসি কেউ তুলে দেয়? মা-কে আম্মা, ফুফু, রংধনু—এইসব কী? সব পরিবর্তন করার দরকার আছে?” এই বক্তব্যে তৃণমূলকে সরাসরি আক্রমণ করার পাশাপাশি শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন হওয়া উচিত, তা নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি। এছাড়াও, স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: ইউরোপের বাজারে দাপট, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অস্ত্র রপ্তানিকারক হল ভারত
শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গে পাশ-ফেল প্রথা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তেরও বিরোধিতা করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, পড়ুয়াদের পড়াশোনার অগ্রগতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পাশ-ফেল ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। একই সঙ্গে ভারতবর্ষের ইতিহাস ও পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার উপর জোর দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, ব্রতচারী, এনএসএস এবং প্রতিটি স্কুলে এনসিসি-র মতো কর্মসূচিও ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। অর্থাৎ, স্কুলশিক্ষায় রাষ্ট্রবাদী ভাবনা, ইতিহাসচর্চা, সাংস্কৃতিক কার্যকলাপ ও শৃঙ্খলাকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন করে শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি।