সৌভিক মুখার্জী, নন্দীগ্রাম: নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম (Nandigram) এবং রেজিনগর এই দুই বিধানসভায় অনুষ্ঠিত হবে উপনির্বাচন। তবে নন্দীগ্রাম নিয়ে এখন তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিতর্ক তুঙ্গে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনের পর দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে টিএমসি। সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিরিখে ঋতব্রত শিবিরই আসল তৃণমূল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তবে দলের প্রতীক নিয়ে এখনও দুই শিবিরের মধ্যে চলছে দড়ি টানাটানি। এবার ঋতব্রত শিবির স্পষ্ট জানিয়ে দিল, নন্দীগ্রামে মমতা দাঁড়ালে তারা প্রার্থী দেবে না।
নন্দীগ্রাম নিয়ে দড়ি টানাটানি দুই তৃণমূলের
২৬-র বিধানসভা নির্বাচনে এমনিতেই ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। বিধানসভার পাশাপাশি ভেঙেছে লোকসভাও। ষাটের বেশি বিধায়ক নিয়ে এখন রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল ঋতব্রত তৃণমূল। এমনকি বিরোধী দলনেতা হিসেবেও তকমা পেয়েছেন তিনি। এদিকে এবারের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর এই দুই বিধানসভা থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রাম তাঁর নিজের বিধানসভা, অন্যদিকে ভবানীপুরে দাঁড়িয়েছিলেন মমতাকে চ্যালেঞ্জ করতে। সেখানে গো-হারা হেরেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তবে নিয়ম অনুযায়ী একজন বিধায়ক একটি মাত্র বিধানসভার দায়িত্ব সামলাতে পারেন।
সেই সূত্রে নন্দীগ্রাম ছাড়েন শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী ওই বিধানসভায় আবার উপনির্বাচনের মাধ্যমেই নতুন বিধায়ক নির্বাচিত হন। সেই সূত্রে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচনের ঘোষণা করেছে কমিশন। এছাড়া এদিন রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রেও হবে উপনির্বাচন। তবে নন্দীগ্রামের প্রার্থী দেওয়া নিয়ে ঋতব্রত শিবিরের আখরুজ্জামান স্পষ্ট জানান, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্ন রয়ে গিয়েছে। নন্দীগ্রাম থেকে তিনি জিততে পারেননি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী যদি নন্দীগ্রামে প্রার্থী হন, তাহলে তাঁর স্বপ্নপূরণের জন্য আমরা সরে দাঁড়াব। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর না জেতার যে যন্ত্রণা, তার জন্য ওখানে প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করে নেব।”
আরও পড়ুন: ফের বদলে গেল সোনা, রুপোর দাম! আজকের রেট
মমতাকে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, “ওনার যাতে স্বপ্নপূরণ হয়, আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হলে আমরা প্রার্থীপদ তুলে নেব। বারবার বিভিন্ন সময় উনি প্রশ্ন তুলেছেন যে নন্দীগ্রামে কীভাবে ওনাকে হারানো হয়েছে। তাই ওনার ইচ্ছা পূরণের জন্যই আমরা যা উদ্যোগ নেওয়ার নেব।” এমনকি একই কথা শোনা যায় ঋতব্রত শিবিরের অন্যতম চেনা মুখ ঋজু দত্তের গলায়। তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামে যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হন, তাহলে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের কোনও প্রার্থী দেবে না। আমরা চাই, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো ভবানীপুর থেকে নন্দীগ্রামে গিয়ে লড়েছিলেন, হেরেছেন। নিজের বিধানসভা ভবানীপুরে হেরেছেন। অনেকবার তিনি হেরেছেন। তাঁর ছবি লাগিয়ে ২৯৪ জনের মধ্যে ২১৪ জন হেরে গিয়েছেন। তাই আমার মনে হয়, একবার জিতলে ওনার ভালো লাগবে। তাই নন্দীগ্রামে যদি উনি দাঁড়ান, তাহলে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে আমরা কোনও প্রার্থী দেব না এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমরা সমর্থন করব।”