সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC Bill) কবে চালু করবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এ নিয়ে সংশয় রাজ্যবাসীর মধ্যে। শোনা যাচ্ছিল, চলতি বাজেট অধিবেশনেই হয়তো এই বিধিমালা কার্যকর করা হতে পারে। তবে এবার নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বাজেট অধিবেশন নয়, বরং আলাদা বিশেষ অধিবেশন ডেকেই এই দেওয়ানি বিধি কার্যকর হবে। কারণ, এখনও পর্যন্ত আইন দফতর এই বিলটির অনুমোদন দেয়নি।
কবে পাশ হচ্ছে ইউনিফর্ম সিভিল কোড?
প্রসঙ্গত, গত ১০ জুলাই এই ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা দেওয়ানি বিধি কার্যকর করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একটি ৯ সদস্যের দল গঠন করেন। যেখানে প্রধান হিসেবে রাখা হয় সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইকে। তাছাড়া কমিটির সদস্য হিসেবে থাকেন মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায় , আইএএস অফিসার দুষ্যন্ত নারিয়ালা, সংঘমিত্রা ঘোষ, শত্রুঘ্ন সিংহ, বঙ্গবাসী কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা রত্না ভট্টাচার্য সহ প্রমুখ।
বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, এই দেওয়ানি বিধি কার্যকর করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি কার্যকর হলে এক এবং অভিন্ন আইন চালু হবে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে এত তাড়াহুড়ো করতে চাইছে না রাজ্য প্রশাসন। এখনও পর্যন্ত আইন দফতরের তরফ থেকে এ বিষয়ে সবুজ সংকেত মেলেনি। সরকার চাইছে, বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে আইনগত, সাংবিধানিক এবং সামাজিক দিক খতিয়ে দেখেই তার চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে, এবং তারপরেই সবার সুপারিশের ভিত্তিতে বিধানসভায় বিলটি পেশ করতে। এমনকি সেই মতোই বিধানসভায় একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানেই এই বিল পাশ করা হতে পারে।
আরও পড়ুন: যৌথ পরিবারে বাদ পড়ছে যোগ্য উপভোক্তারা, বাতিলের দাবি তুলে চিঠি রেশন ডিলারদের
কী এই ইউনিফর্ম সিভিল কোড?
জানিয়ে রাখি, ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি এমন একটি প্রস্তাবিত আইন কাঠামো যার মাধ্যমে ধর্ম, বর্ণ বা লিঙ্গ নির্বিশেষে ভারতের সমস্ত নাগরিকের জন্য বিবাহ, দত্তক গ্রহণ, বিবাহবিচ্ছেদ বা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত ব্যক্তিগত বিষয়গুলি একটি অভিন্ন আইনে প্রয়োগ করা যায়। বর্তমান সময়ে ভারতে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান সহ বেশ কিছু ধর্মের আলাদা ব্যক্তিগত আইন রয়েছে। কিন্তু এই বিধির আওতায় সেই সমস্ত ধর্মীয় আইনের জন্য একটিমাত্র সাধারণ আইন কার্যকর করা হবে। ইতিমধ্যে উত্তরপ্রদেশ, অসমসহ বেশ কিছু রাজ্যে এই বিধি চালু করা হয়েছে। এবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারও সেই একই পথে হাঁটছে।