প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আর রাখ ঢাক নয়, এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) উদ্দেশে করা বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) ‘স্যাটাভাঙা মার’ মন্তব্যের ঝড় উঠল বিধানসভায়। আজ, সোমবার অধিবেশন চলাকালীন এদিন মুখ্যমন্ত্রী ভরা সভায় স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়ে দিলেন যে, কোনও রকম উস্কানিমূলক কথা এই সরকার বরদাস্ত করবে না। এরপরই কয়েকজন বিজেপি বিধায়ক ‘হুমায়ুন হায় হায়’ স্লোগান লেখা পোস্টার তুলে ধরেন। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে ২টি FIR দায়ের করা হয়েছে।
কী বলেছিলেন হুমায়ুন?
মুর্শিদাবাদের নওদা বিধানসভার আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের সাম্প্রতিক উসকানিমূলক ও সাম্প্রদায়িক মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ ভাইরাল হয়েছিল। খোদ মুখ্যমন্ত্রী ও প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। উসকানিমূলক ভাষায় তিনি বলেছিলেন, “আমার মাথা যেদিন গরম হয়ে যাবে, সেদিন আমি এসপি, চিফ মিনিস্টার, এসব কিচ্ছু বুঝব না! কে কোথায় থাকল তাও পরোয়া করব না।” এমনকি তিনি এও বলেছিলেন, “আমি যেদিন ময়দানে মুসলমানদের নিয়ে নামব, সেদিন এমন স্যাটাভাঙা মার শুরু করব যে বিজেপির পতাকা বহন করার মতো কোনো লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না!” আর এবার এই নিয়ে মুখ খুললেন শুভেন্দু।
বিধানসভায় হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, বিধানসভায় হুমায়ুন কবীরের নাম করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আপনাকে এভাবে বেপরোয়া, লাগামছাড়া মন্তব্য করতে দেব না। এত বড় ক্ষমতা আপনাকে কেউ দেয়নি, কান খুলে কথা শুনে রাখুন। আমি ১ সপ্তাহের মধ্যে মুর্শিদাবাদ যাচ্ছি। আমি প্রমাণ করে দেব ভারতের আইন ও সংবিধান শেষ হয়নি। এই ধরণের কথা বলার আগে ২৫ বার ভাববেন।” এছাড়াও বিধায়ককে সরাসরি বার্তা দিয়ে শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি, “এটাই আপনার শেষ উস্কানিমূলক বক্তব্য, এটা আপনি আজ ধরে নিতে পারেন। বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে আপনার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই দুটি FIR দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে।”
আরও পড়ুন: ফের খারিজ অভিষেকের আবেদন, দ্রুত শুনানি করতে নারাজ হাইকোর্ট
প্রসঙ্গত, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পাশাপাশি, মুর্শিদাবাদেও আসন বাড়িয়েছিল বিজেপি। ওই জেলার ২২টি আসনের মধ্যে ৮টিতে জিতেছিল বিজেপি অন্যদিকে নতুন দল গড়েই ২টি আসনে জিতেছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হুমায়ুন কবীর। যদিও নওদা নিজের হাতে রেখে দিয়ে, রেজিনগরের বিধায়ক পদ ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। এখন দেখার তাঁর এই হিংসামূলক মন্তব্যে আর কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।