অনন্যা সরকার, ডায়মন্ড হারবার: বর্ষায় ইলিশের (Hilsa) জন্য অপেক্ষা করে বসে থাকে আপামর বাঙালি। তবে এবছর ইলিশের (Ilish) আকাল। অনেক আশা নিয়ে মৎস্যজীবীরা (Fishermen) সমুদ্রে পাড়ি দিয়েছিলেন কিন্তু জালে আশানুরূপ ইলিশ ধরা না পড়ায় অন্য মাছ ধরার দিকে ঝোঁকেন তারা। তাদের আশা বিফল না করে এবার জালে উঠল ৫ কুইন্টালেরও বেশি সেলে মাছ (Sele Fish)। ইলিশের চেয়ে দ্বিগুণ দামী এই মাছ মৎস্যজীবীরা বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছেন ডায়মন্ড হারবারের মৎস আড়ত ও নগেন্দ্র বাজারে।
ইলিশের থেকে মহার্ঘ সেলে মাছ
মৎস্যশিকারীরা মোট ৪০ টি সেলে মাছ জালে তুলেছেন। এগুলির প্রত্যেকটির ওজন ২০ থেকে ২৫ কেজির মতো। ওই মাছ ইলিশের থেকেও দামি কারণ এর পটকা থেকে তৈরি হয় প্রয়োজনীয় ওষুধ। কপাল খুব ভালো থাকলে, তবেই মৎস্যজীবীদের জালে পড়ে এই মাছ। এবারে ইলিশের ঘাটতি পূরণ করে দিয়েছে সেলে। মৎস্যজীবীরা ভালো অর্থ উপার্জন করতে পেরেছেন এগুলি বিক্রি করে।
বাজার সূত্রে জানা গেছে, সেলে মাছের দাম প্রায় ১,৫০০ টাকা কেজি হবে। কিন্তু সমস্যা হল এই মাছ পাওয়া খুবই কঠিন। সব সময় জালে ধরা পড়ে না সেলে। তবে একবার ধরতে পারলে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার খরচ উঠে আসে অনেকটাই। স্থানীয় এক মৎস্য ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, বর্তমানে ইলিশ জালে উঠছে না। তার বিকল্প হিসেবে পাওয়া গেছে সেলে। উপকার হবে মৎস্যজীবীদের। খুব একটা পাওয়া যায় না এই মাছ, সিজনে এই প্রথম সেলে ধরা পড়েছে জালে। ইলিশের থেকেও অনেক দামি এই মাছ। বিশেষ করে এর পটকা খুবই মূল্যবান, কারণ এটা ওষুধ তৈরির কাজে লাগে।
আরও পড়ুনঃ বিধানসভায় আজ পেশ নয় UCC বিল, সামনে এল রাজ্য সরকারের নয়া পরিকল্পনা
কাকদ্বীপের মৎস্যজীবী মনোজ মন্ডল জানিয়েছেন, ভারী বৃষ্টি না পড়লে ইলিশ জালে পড়বে না, যেহেতু এবারে বর্ষা এখনও সেভাবে শুরু হয়নি, তাই ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। এখন সেলে মাছের দাম ইলিশের থেকেও বেশি। এর পটকা থেকে ক্যাপসুল তৈরি হয়, তাই এত দাম। পাইকাররা এখান থেকে সেলে মাছ কিনে নিয়ে যান। কোনো কোনো মাছের ওজন ৪০ কেজি পর্যন্তও হতে পারে।