সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ হৈচৈ পড়ে গেল ওড়িশা (Odisha) রাজ্যে। ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলায় প্রায় দেড় কোটি বছর পুরোনো জীবাশ্ম (15 Million year old fossils) আবিষ্কৃত হয়েছে। এগুলি থেকে বোঝা যায় যে, বর্তমান বারিপদ এবং তার আশেপাশের এলাকা একসময় একটি অগভীর সমুদ্রে নিমজ্জিত ছিল। সূত্রের খবর, কুলিয়ানা ব্লকের ডেরা থেকে বড়সাহি ব্লকের প্রতাপপুর পর্যন্ত বিস্তৃত বারিপদ জীবাশ্ম স্তরটি মায়োসিন যুগের, যে সময়কালটি ব্যাপক জীববৈচিত্র্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য উল্লেখযোগ্য।
দেড় কোটি বছর পুরোনো জীবাশ্ম মিলল ওড়িশায়
গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কারগুলো ইঙ্গিত দেয় যে বর্তমান বারিপদ এবং তার আশেপাশের এলাকার একটি বড় অংশ একসময় অগভীর সমুদ্রের নিচে ডুবে ছিল। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মহারাজা শ্রীরামচন্দ্র ভঞ্জ দেব (এমএসসিবি) বিশ্ববিদ্যালয়ের জিআইএস বিভাগের গবেষক ও অধ্যাপক ড. দেবব্রত নন্দী জানান, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একটি মাঠ পরিদর্শনের সময় এই আবিষ্কারের সূচনা হয়। তিনি বলেন, “আসলে, আমি যখন আমার শিক্ষার্থীদের নিয়ে মাঠ পরিদর্শনে যাই, তখন জীবাশ্মের মতো কিছু অবশিষ্ট দেখতে পাই। আমরা স্থানীয়দের জিজ্ঞাসা করি এগুলো কী, এবং তারা সেগুলোকে ‘অসুর হড্ডা’ অর্থাৎ ‘দানবের হাড়’ বলে বর্ণনা করেন। এরপর আমরা আরও অনুসন্ধান করে বেশ কিছু জীবাশ্ম খুঁজে পাই, যার মধ্যে হাঙরের দাঁত ও কাঁটার মতো ক্ষুদ্র জীবাশ্মও ছিল, এবং এমন কিছুও পেয়েছি যা আমরা এখনও শনাক্ত করতে পারিনি।”
#WATCH | Odisha: Almost 15 million-year-old fossils from the Miocene period were found in Baripada town of Mayurbhanj district. pic.twitter.com/MsZybpiDtF
— ANI (@ANI) June 18, 2026
জীবাশ্মগুলোর মধ্যে রয়েছে হাঙরের দাঁত, মাছের হাড়, শামুকের খোলস
তিনি বলেন, এই আবিষ্কারগুলোর তাৎপর্য সম্পূর্ণরূপে বোঝার জন্য গবেষকরা জীবাশ্মবিদ এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করছেন। তিনি বলেন, “এটি সম্ভবত ১৫ মিলিয়ন বছর আগের, মায়োসিন যুগ নামক একটি সময়ের। এই জীবাশ্মটি সেই সময়ের। যদি এটি একটি সামুদ্রিক এলাকা না হতো, তাহলে আমরা হাঙরের দাঁত বা অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর জীবাশ্ম খুঁজে পেতাম না। এই জীবাশ্মগুলোর উপস্থিতি এটাই প্রমাণ করে যে সেখানে একসময় সমুদ্র ছিল।”
আরও পড়ুনঃ কার্যকর হয়নি ২৫ বছর, সরকারি কাজে আসছে নয়া নিয়ম! নবান্নে যাবে চিঠি
এক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই জীবাশ্মগুলোর মধ্যে রয়েছে হাঙরের দাঁত, মাছের হাড়, শামুকের খোলস এবং আণুবীক্ষণিক সামুদ্রিক জীব, যা একটি সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় জলজ বাস্তুতন্ত্রের ইঙ্গিত দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এই স্থানে পাওয়া মাছের জীবাশ্মের প্রায় অর্ধেকই হাঙরের। বর্তমান বারিপদ থেকে সমুদ্র কীভাবে প্রায় ৬০ কিলোমিটার পিছিয়ে গেল, তা বোঝার জন্য জলবায়ু-ভিত্তিক গবেষণার প্রয়োজনীয়তার ওপরও নন্দী জোর দেন। তিনি বলেন, “সমুদ্র কেন এতদূর পিছিয়ে গেল জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নাকি অন্য কোনো দুর্যোগের কারণে—তা নিয়ে সবার গবেষণা করা উচিত। আরও গবেষণা হলে আমরা আরও অনেক কিছু আবিষ্কার করতে পারব।”