অনন্যা সরকার, কলকাতা: কেরলের (Kerala) পালাক্কাদ জেলার একটি জিমকে ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনে কেরালামে সরকার পরিবর্তন হয়েছে। কংগ্রেস ক্ষমতায় এসেছে। নতুন সরকার আসার পর সে রাজ্যে মৌলবাদীদের দাপট শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে আসছে। পালাক্কাদ জেলার পুথুনাগারামে অবস্থিত একটি জিমকে ‘ইসলাম বান্ধব’ বলে প্রচার করছেন জিমটির মালিক নওয়াজ মুথু টি। এই নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে জোর তরজা।
‘ইসলাম বান্ধব’ জিম নিয়ে কেরালামে শুরু হয়েছে বিতর্ক
নওয়াজ মুথু টি নামের এক ব্যক্তি পালাক্কাদ জেলার পুথুনাগারামে একটি জিম চালান। সম্প্রতি তিনি জিমের জন্য একটি প্রচারমূলক ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে তিনি তার জিমকে ‘ইসলাম বান্ধব’ বলে প্রচার করেন। এই জিমে পুরুষ ও মহিলা একসাথে শরীর চর্চা করতে পারবেন না, উচ্চস্বরে গান বাজানো হবে না বলে জানানো হয়। পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা সময় এবং আলাদা স্থান নির্দিষ্ট করা থাকবে বলে জানান। এমনকি প্রশিক্ষকও পৃথক রাখা হবে বলে জানিয়েছেন জিম মালিক। ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘কেরালামে এই ধরনের ‘ইসলাম বান্ধব’ জিম এই প্রথম বলে আমার বিশ্বাস। তবে জিমটি নতুন নয়, ১৫ বছর ধরে চলছে। বর্তমানে এর সংস্কারের কাজ চলছে।”
WANT TO KNOW WHAT IS AN “ISLAM FRIENDLY” GYM LISTEN TO THE ONWER WHO OWNS A “SHARIA COMPLIANT” SPACE IN PALAKKAD, KERALA
Owner says he follows Sharia rules: separate timings for men women, same gender trainers, no loud filmy music. Claims it doesn’t mean “Muslim only”. It’s a… pic.twitter.com/KX1aDdGWjk— Rahul Shivshankar (@RShivshankar) June 4, 2026
এই প্রচারমূলক ভিডিওটি দ্রুত ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। তারপরেই শুরু হয় বিতর্ক। নেট নাগরিকরা কটাক্ষ করেন, তাহলে কি শুধুই ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য এই জিমটি খোলা হয়েছে? বিতর্কের মুখে পড়ে ভিডিওটি সরিয়ে দেন নওয়াজ মুথু টি। তারসাথে সাফাইয়ের সুরে জানান, জিমটি শুধুমাত্র মুসলিমদের জন্য নয়, যেকোনো সম্প্রদায়ের মানুষই এখানে আসতে পারেন। ‘ইসলাম বান্ধব’ কথাটি দিয়ে তিনি কোনো বিধি নিষেধ আরোপ করতে চাননি বরং নির্দিষ্ট কিছু পরিচালন পদ্ধতি বোঝাতেই এই শব্দ বন্ধের ব্যবহার।
আরও পড়ুনঃ ইতিহাসে প্রথমবার স্থান নিরাপত্তা পরিষদে, UN-এ পাকিস্তানের খেল খমত করল এই দেশ!
নওয়াজ বলেন, তিনি যেহেতু মুসলিম ধর্মাবলম্বী তাই সেই সম্প্রদায়ের মানুষদের কিছু সমস্যা সম্পর্কে তিনি অবগত। যেমন অনেক মুসলিম ব্যক্তি ধর্মীয় কারণে গান শোনেন না কিন্তু জিমে গেলে তাদের একার জন্য গান বন্ধ করা সম্ভব হয় না পাশাপাশি বহু মহিলা পুরুষদের সাথে একসাথে শরীরচর্চা করতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন না। তাদের কথা ভেবেই তিনি এরকম কিছু নিয়ম রেখেছেন। তবে কেরালামে মৌলবাদীদের দাপট শুরু নিয়ে বিতর্ক জারি আছে।