সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দিন কয়েক আগেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অরাজকতা দূর করতে ১০ হাজার কন্ঠে বন্দে মাতরমের আয়োজন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এমনকি সেই অনুষ্ঠান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশবিরোধী পোস্টার খোলার হুঁশিয়ারি দেন। তাঁর সেই হুঁশিয়ারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আজাদী স্লোগানে করা হয় সাদা চুনকাম। তবে ঠিক তার পরদিন আবার বামদের ছাত্র সংগঠনের তরফ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে সাঁটানো হয় মার্কসের স্লোগান। তবে গেরুয়া সম্মান ফেরাতে আজ ফের রাজপথে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
‘গেরুয়া সম্মান’ রক্ষার্থে রাজপথে মুখ্যমন্ত্রী
এদিন গোলপার্ক থেকে ৮ বি বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরনে গেরুয়া পোশাক এবং হাতে গেরুয়া ঝান্ডা নিয়ে আজ হাঁটতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে। এমনকি গোটা যাদবপুর আজ কার্যত গেরুয়াময় হয়ে ওঠে। মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি এদিন মঞ্চে দেখা যায় কার্তিক মহারাজকে। তাছাড়া আরও অনেক গুনিজন উপস্থিত ছিলেন আজকের এই কর্মসূচিতে। তবে সেখান থেকেই ফের সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গেরুয়ার সম্মান রক্ষার্থেই আজ একাধিক ঘোষণা করেন তিনি।
এদিন যাদবপুরের সভামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যারা দেশের ভিতর থেকে দেশকে এবং গেরুয়াকে অপমান করছে, তাদেরকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য আমি আবার আসব। আর একবার আসব গীতা পাঠ করতে। আর একবার হনুমান চালিশা পাঠ করতে আসব…. এখানে কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি গ্যাংকে আর কিষেনজিকে রেড স্যালুট দেওয়া লোকেদের, আর যারা গেরুয়া তাণ্ডব লিখেছেন তাদের শিকড় সহ তুলে দেব আমি।”
আরও পড়ুন: ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে ফেলে সঙ্গমরত পথকুকুরের যৌনাঙ্গ, তাহেরপুরে ধৃত মাংস ব্যবসায়ী
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “আমি পণ করেছিলাম, আমার নেতৃত্বে কমিউনিস্টকে সরাবো… আমি পণ করেছিলাম ছাব্বিশে এই জামাতি সরকারকে সরাবো। আপনাদের সাহায্যে সেটা হয়েছে। গেরুয়াই হবে সব।” প্রসঙ্গত, দিন কয়েক আগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই ছাত্র সংগঠন এসএফআই এবং এবিভিপি-র মধ্যে চরম সংঘর্ষ বাঁধে। তবে সেই খবর কভার করতে গিয়ে কলকাতার প্রথম সারির এক সংবাদমাধ্যম ‘গেরুয়া গুণ্ডামি’ হেডলাইন দিয়ে বসে, যা নিয়ে সুর চড়িয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি তিনি প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন। কিন্তু তারা সুর নরম করেননি। এবার তাদের উদ্দেশ্যে এই কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর।