কুকুরের কামড়ে বাড়ে জলাতঙ্কের ঝুঁকি! সংক্রমণ এড়াতে করে ফেলুন এই কাজগুলি

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: কুকুরকে (Dog) ভালোবাসলেও মাঝে মধ্যেই শিরোনামে উঠে কুকুরের কামড়ের খবর। অবস্থা এমনও হয়েছে যে এদের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে কেউ প্রাণ হারিয়েছেন, আবার কেউ কেউ কুকুরের কামড়ে (Dog Bites) গুরুতর জখমও হচ্ছেন। তাই সেক্ষেত্রে সময় মতো চিকিৎসা না করলে জলাতঙ্ক যেমন প্রাণ কেড়ে নিতে পারে, তেমনই প্রদাহের জায়গায় সংক্রমণ ছড়িয়ে সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তাই ভয় এবং আতঙ্কিত না হয় প্রাথমিক চিকিৎসা (Medical Treatment) হিসেবে যেই কাজগুলি করা বেশ জরুরি সেগুলি একনজরে জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।

জল দিয়ে ক্ষতস্থান ধুতে হবে

কুকুর যেই জায়গায় কামড়িয়েছে সেই জায়গায় সঙ্গে সঙ্গে মাইল্ড সাবান দিয়ে ভাল করে ধুয়ে নিতে হবে। গরম জল ব্যবহার করলে ভাল। তা হলে সব রকম জীবাণু সেখান থেকে ধুয়ে যাবে। পারলে সেখানে একটু অ্যান্টিসেপ্টিক কোনও দ্রব্য লাগান। কিন্তু তখনই ওই জায়গায় কোনও বাঁধন না দেওয়াই ভাল।

ব্যবহার করুন সর্ষের তেল

ক্ষতস্থান ভালো করে ধুয়ে সেখানে সর্ষের তেলও দিতে পারেন। এটি লাগালে খুব জ্বালা করতে পারে ঠিকই। কিন্তু এতে আছে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, যা ক্ষত সারাতে বেশ সক্ষম। এছাড়াও আক্রান্ত স্থানে হলুদ বাটাও দিতে পারেন। এটিও অ্যান্টিসেপ্টিক হিসেবে বেশ কার্যকরী।

নিতে হবে অ্যান্টি-র‌্যাবিস ইঞ্জেকশন

কাউকে কুকুরে কামড়ালে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টি-র‌্যাবিস ইঞ্জেকশন নিতে হবে। কারণ কুকুর কামড়ালে র‌্যাবিস নামক এক ধরনের জীবাণু শরীরে যায়। তাই এই ইঞ্জেকশন, কুকুর কামড়ানোর দিন থেকে শুরু করে তৃতীয়, সপ্তম, চোদ্দতম এবং আঠাশতম দিন, মিলিয়ে মোট পাঁচটি ডোজ নিতে হয়। নইলে জলাতঙ্ক রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

ধুলোবালি লাগানো যাবে না

প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি অবশ্যই প্রতি দিন কুকুরের কামড়ের ক্ষতস্থান পরিষ্কার করতে হবে। ধুলোবালি লাগানো যাবে না এই সময়। যত দিন না প্রদাহ শুকিয়ে আসে, তত দিন এই নিয়ম মেনে চলতে হবে। পারলে মাঝে মধ্যে ডাক্তারের কাছে চেক আপ করিয়ে নিতে পারেন।

আরও পড়ুন: ঘুম থেকে উঠলেই গোড়ালির ব্যথায় নাজেহাল? মেনে চলুন এই টিপস গুলো

খাবেন না মিষ্টি

কুকুর কামড়ানোর পর ভুলেও মিষ্টি জাতীয় কোন খাবার খাবেন না তাহলে সেই ক্ষতস্থান পুরোপুরি স্বার্থে অনেক সময় লাগে। চিকিৎসকদের মতে মিষ্টি জাতীয় খাবার গুলিতে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ আরো বেশি করে বাড়তে পারে, তাই ভুলেও চকলেট মিষ্টি সন্দেশ একদমই খাওয়া চলবে না। এমনকি এলকোহল জাতীয় খাবার খাওয়াও এই সময় বন্ধ রাখতে হবে।

Leave a Comment