সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং পুলিশ প্রশাসনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। এবার সরাসরি পুলিশ অফিসারদের জেলে ঢোকানোর বার্তা তৃণমূল সাংসদের। সেই সূত্রে এবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানাকে একহাত নিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আইনজীবীর সাথে সম্পর্ক রেখে বিরোধীদের দমানোর চেষ্টা করছেন পুলিশ সুপার, এমনটাই দাবি সাংসদের।
কেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিশানায় IPS পাপিয়া সুলতানা?
মিডিয়ার সামনে গতকাল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “পশ্চিম মেদিনীপুরের এসপি, তাঁর কোথায় কোন আইনজীবী সাথে সম্পর্ক, সর্বজনবিদিত, রাতের অন্ধকারে মিটিং করে কীভাবে ফাঁসানো যায়, আইনের বাইরে গিয়ে কাজ করা, ইলেকশনের রেজাল্টের আগের দিন আমাকে মেসেজ করে তৃণমূল হইহই করে জিতবে, শুভেচ্ছা জানিয়ে রেজাল্ট বেরোনোর পর বিজেপি যখন চুরি করে জিতেছে, এখন মুখ্যমন্ত্রীকে খুশি করার জন্য যারা হাজার হাজার তৃণমূল কর্মীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে…একটা পুলিশ অফিসারকেও আগামী দিন আমাদের সরকার রেয়াত করবে না।”
তৃণমূল সাংসদের আরও সংযোজন, “বাংলার মানুষ দেখছে কী টর্চার চলছে। আইনশৃঙ্খলার নামে প্রহসন, এনকাউন্টার। ক্ষমতা থাকলে নিজের ভাইপোকে এনকাউন্টার করুন। যার জন্য ২০ জন মারা গেছে। সেই অপরাধীকে এনকাউন্টার করুন। ২০ জন আত্মার শান্তি যদি চান। তার মধ্যে একজন ৭ বছরের শিশুও রয়েছে। পদপিষ্ট হয়ে মারা গেছে। অর্ধেক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাহলে পুলিশের কাজ কী? যাদের গাফিলতির জন্য হয়েছে তাদের ধরা হবে না?”
চোরবাগান প্রসঙ্গ নিয়ে অভিষেক আরও বলেন, “জোরজবরদস্তি করে যারা পুজো কমিটিগুলি দখল করেছিল, নিজেদের প্রচার, জনপ্রিয়তা, রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে, তারা তদন্তের বাইরে থাকবে কেন? তাদেরকেও তদন্তের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। তাদের বিরুদ্ধেও উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। খালি দু-চারটে চুনোপুঁটিকে অ্যারেস্ট করে লাভ নেই। তমোঘ্ন ঘোষকে আপনি অ্যারেস্ট করুন। বিজয় ওঝাঁকে অ্যারেস্ট করুন। আর দেবদ্বীপ অধিকারী। আপনার পরিবার এমন একটা পরিবার যেখানে দুর্নীতিগ্রস্ত ৫ লাখ টাকার ঘুষখোর আছে, আর ১৯ জনকে খুন করার ভাইপো আছে।”
আরও পড়ুন: মধ্যবিত্তদের স্বস্তি দিয়ে অনেকটাই দাম কমল সোনা, রুপোর!
প্রসঙ্গত, এবার তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর একেবারে বিপাকে পড়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। চাকরি চুরি, বালি চুরি, ত্রাণ চুরি থেকে শুরু করে একাধিক অভিযোগে বিভিন্ন থানায় দায়ের হয়েছে এফআইআর। যদিও বেশ কয়েকটি মামলায় অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ পেয়েছেন তিনি। তবে তার মধ্যেই বিজেপিকে চরম আক্রমণ সাংসদের।