=== console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block.

গ্র্যান্ট-ইন-এইড কর্মীদের বকেয়া নিয়ে বিভ্রান্তি, মিলবে না প্রাপ্য টাকা?

সহেলি মিত্র, কলকাতা: তবে কি খালি হাতে থাকতে হবে বাংলার গ্র্যান্ট ইন এইড (Grant-in-Aid) কর্মীদের? আশঙ্কা তেমনই করা হচ্ছে। সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ও সরকার পোষিত স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষা কর্মী ও অন্যান্য কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতা মেটানোর কথা জানিয়েছে সরকার। সকলের টাকা মেটানো হবে বলে কলকাতা হাইকোর্টে জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার। বুধবার বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে শুনানি চলাকালীন সরকার বকেয়া ডিএ মামলায় জানায়, ‘গ্র্যান্ট ইন এইড’ কর্মীরাও তাঁদের প্রাপ্য বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতা পাবেন। যদিও এখন এই নিয়ে অন্য কথাই বলছেন কর্মীরা। গ্র্যান্ট ইন এইড কর্মীদের বকেয়া মেটানোর বিষয়টা নিয়ে ভুল খবর প্রকাশিত হচ্ছে বলে দাবি করলেন বহু শিক্ষক।

গ্র্যান্ট ইন এইড কর্মীদের বকেয়া নিয়ে মিথ্যে প্রচার চলছে!

এই বিষয়ে বড় তথ্য দিয়েছেন পরিচিত শিক্ষক নেতা কিংকর অধিকারী। তিনি নিজের ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘ভুল খবর প্রকাশিত হচ্ছে। সরকারি নোটিশে গ্র্যান্ট-ইন-এডের কর্মীদের বকেয়া মেটানোর কোনও কথা নেই!’ বছরের পর বছর ধরে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা প্রাপ্য ডিএ-র কিছু অংশ পেলেও ‘গ্রান্ট ইন এড’ শিক্ষকরা টানা বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়। কলকাতা হাইকোর্টে এই নিয়ে মামলা দায়ের হয়। সেই মামলারই শুনানি ছিল বুধবার। সরকার জানায় সকলকেই বকেয়া টাকা দেওয়া হবে। যদিও এই নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে কর্মীদের মধ্যে।

বড় অভিযোগ কর্মীদের

কিংকর অধিকারীর পোস্টের পরিপ্রেক্ষিতে একজন সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘হ্যাঁ আমার তাই মনে হচ্ছে, পার্শ্ব শিক্ষককেও নাকি রোপা ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের ডিএর টাকা দেবে। শুনে অবাক হলাম।’ অন্য একজন লিখেছেন, ‘গ্র্যান্ট ইন এইডরা সেই তিমিরেই।’ অপর একজন লিখেছেন, ‘পুরোটাই কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ঝুলিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা। আর এই পরিকল্পনা যদি সার্থক হয় গ্র্যান্ট-ইন-এইড কর্মচারীরা কর্মচারীরা মনে রাখুন পরবর্তীতে যখন DA দেওয়া হবে তখন কিন্তু আপনারা বাদ পড়তে পারেন। আমি নিজেও একজন ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক।’

আরও পড়ুনঃ পুজোর আগেই রাজ্য পুলিশে সাড়ে ১১ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

এদিকে ডিএ নিয়ে সরকার নয়া নির্দেশিকা জারি করেছে। পুজোর আগেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের আট বছরের বকেয়া ডিএ মেটাবে রাজ্য। সেই নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নবান্ন। এদিকে এই বিষয়ে বড় মন্তব্য করেছেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘যদিও এই অর্ডার এখনো পর্যন্ত সরকারি ওয়েবসাইটে আপলোড হয়নি তবে আশাকরি এটাই আপলোড হবে। মাননীয় সুপ্রিম কোর্ট আদেশ দিয়েছিলেন AICPI মেনেই বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটাতে হবে সরকারকে। কিন্তু গত সরকার ও তার আমলা বাহিনী নিজেদের মতো করে হিসেব করে কর্মচারীদের অর্থ কিভাবে গায়েব করা যায় তার ফন্দি এঁটেছিলেন। এই নিয়ে আমাদের আপত্তির কথা গত সরকারের কাছে এবং সুপ্রিম কোর্টে ও সুপ্রিমকোর্ট গঠিত কমিটির কাছে বারবার করে জানাই।’

তিনি আরও লেখেন, ‘সরকার আসার পরে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর সাথে প্রথম বৈঠকে আমরা এই ভুল হিসাবের বিষয়টি উত্থাপন করি।  তিনি তখন বলেন আমরা সঠিক হিসেবেই সমস্ত অর্থ পরিশোধ করব ।আজকে ২০০৮ থেকে ২০১৫ এই সময়কালের বকেয়া সুপ্রিম কোর্ট নির্ধারিত AICPI মেনে দেওয়ার আদেশ জারি করার মধ্যে দিয়ে আপাতত হিসাবের গণ্ডগোলের ধারার হয়তো পরিসমাপ্তি ঘটলো। এরপরেও যদি হিসাবের গোলমাল হয় আগামী শুনানিতে সমস্ত তথ্য সহ সুপ্রিম কোর্টের সামনে আমরা তুলে ধরার চেষ্টা করব। সরকারের সাথে বসে তার সমাধানের প্রচেষ্টাও করা হবে। সরাসরি সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নিয়ে জটিলতা অনেকটাই অবসান হলো এই নোটিফিকেশন এর মধ্যে দিয়ে। কিন্তু সরকারি কর্মচারীদের বৃহৎ অংশ অর্থাৎ গ্র্যান্ট-ইন-এইড কর্মীদের বকেয়া নিয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর অগ্ৰগতি পরিলক্ষিত হয়নি। এই বিষয়ে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে পরিষ্কার দাবি জানাচ্ছি কাল বিলম্ব না করে গ্র্যান্ট-ইন-এইড কর্মচারীদের বকেয়া পরিশোধের নোটিফিকেশন প্রকাশ করুক সরকার। সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে এই বৈষম্য সৃষ্টি বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তিকে যেমন খারাপ করছে তেমনি নির্বাচনের পূর্বে দেওয়া প্রতিশ্রুতিও ভঙ্গ করছে বলে আমরা মনে করি।’

Leave a Comment