বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: চাপে পড়ে গেল ইস্টবেঙ্গল (East Bengal FC)। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু’র গ্রুপ পর্বে ঘরের মাঠে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আল সিবের কাছে 2 গোলে হারল লাল হলুদ। ইস্টবেঙ্গল কোচের একগুঁয়েমি মনোভাব এবং দলের ছেলেদের ছন্নছাড়া ফুটবলটাই একপ্রকার ডুবিয়ে দিল মশাল বাহিনীকে। 2-0 ব্যবধানে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকে একেবারে ছিটকে যাওয়ার পর্যায়ে রয়েছে লাল হলুদ। বর্তমানে তালিকার লাস্ট বয় হয়ে প্রহর গুনছে শহরের ঐতিহ্যবাহী দলটি। আর ইস্টবেঙ্গলের এমন দুর্দশার নেপথ্যে দায়ী করা হচ্ছে কোচ হাবাসের একের পর এক সিদ্ধান্তকে।
হাবাসের সিদ্ধান্তে গাড্ডায় ইস্টবেঙ্গল!
মঙ্গলবার, দুই বিদেশি স্ট্রাইকারকে বেঞ্চে বসিয়ে রেখেছিলেন কোচ হাবাস। এদিনের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বিদেশিদের বদলে ভারতীয় অ্যাট্যাকারদের উপর আস্থা রেখেছিলেন স্প্যানিশ কোচ। তবে প্রতিপক্ষ দলের ডিফেন্ডারদের কাছে বারবার পরাস্ত হতে হয়েছে ইস্টবেঙ্গলের ছেলেদের। 17 মিনিটের মাথায় পেশিতে টান নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল আনোয়ারকে। জাতীয় দলের এই নামকরা ডিফেন্ডার আচমকা মাঠ থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় চিন্তা বেড়েছে জাতীয় দলের কোচ খালিদ জামিলেরও।
গতকাল ইস্টবেঙ্গল যে ছন্নছাড়া ফুটবল খেলেছে তার প্রমাণ রশিদ এবং রামিরেজ। লাল হলুদের মাঝমাঠের ভরসা, এই দুই ফুটবলার এদিন একেবারেই নিজেদের ব্যর্থতার বৃত্ত ছড়িয়ে বেরোতে পারেননি। 20 মিনিটের মাথায় এদিন সুযোগ নষ্ট করেন রশিদ। এরপর একে একে গোটা ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের বাকি ফুটবলারদের ছন্নছাড়া মনোভাব মাথাব্যথা বাড়িয়েছিল গ্যালারিতে।
আরও পড়ুন: স্ত্রীয়ের কাটা মুণ্ডু হাতে নিয়ে মন্দিরে বসে স্বামী, ভয়ংকর ঘটনা গঙ্গারামপুরে
দ্বিতীয়ার্ধে ইস্টবেঙ্গল আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠার বদলে যেন নিজেরাই পিছিয়ে পড়েছিল। 55 মিনিটে সুযোগ ছিল ইস্টবেঙ্গলের সামনে। হতে পারতো গোল। তবে সন্দীপ মাণ্ডির সেন্টার থেকে এডমুন্ড হেড করতেই তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। সেখান থেকেই হাবাস বুঝতে পারেন কিছু একটা ভুল হচ্ছে। 61 মিনিটেও রামিরেজের শটে সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তবে সেই শট রুখে দেন প্রতিপক্ষ দলের গোলকিপার। ততক্ষণ পর্যন্ত সব ঠিক থাকলেও 85 মিনিটের মাথায় আল সিবের হয়ে প্রথম গোল করেন অ্যাক্সেল মেয়ের। পরবর্তীতে অতিরিক্ত সময়ের খেলায় দ্বিতীয় গোলটি করেন জাহির আল-আঘরাবি। আর সেটাই ম্যাচের ভাগ্য লিখে দিয়েছিল।