আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান তৈরি এবং গ্রামীণ পরিকাঠামোর উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে একের পর এক উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বিজেপি সরকার। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তাঁরা সরকারি ক্ষেত্রে নিয়োগের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজেও জোর দিচ্ছেন। চলতি বছরের বাজেটেই এক লক্ষ কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। পুজোর আগে কলকাতা পুলিশে চাকরিপ্রার্থীদের হাতে নিয়োগপত্রও তুলে দেওয়া হয়েছে। এবার রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরে দীর্ঘদিনের কর্মী সঙ্কট মেটাতে বড়সড় নিয়োগের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
কী ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী?
বুধবার সল্টলেকের পঞ্চায়েত ভবনে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের কাজকর্ম নিয়ে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল, পঞ্চায়েত প্রতিমন্ত্রী শান্তনু প্রামাণিক-সহ রাজ্যের প্রশাসনিক আধিকারিকরা। বৈঠকে রাজ্যের সমস্ত জেলার জেলাশাসক (DM) এবং ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকরাও (BDO) উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকে মূলত ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্প, ভিবি-জি রামজি, প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ আবাস যোজনা এবং পঞ্চায়েত দফতরের বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়। গ্রামীণ এলাকার উন্নয়নমূলক কাজের গতি বাড়ানো, কর্মী সঙ্কট এবং প্রশাসনিক পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার বিষয়গুলিও পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠক শেষে নিয়োগের বিষয়ে বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, ২০২৭ সালেই পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরে ৭,১৯০ জনকে নিয়োগ করা হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নিয়মেও পরিবর্তন আনা হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আজকের রিভিউ মিটিংয়ে সব ডিএম-রা ছিলেন। ৭হাজার ১৯০ জনের নিয়োগ হবে। পরিচ্ছন্ন রিক্রুটিমেন্ট হবে। দীপাবলির পর নিয়োগের রুল পরিবর্তন হবে। ২০২৭ সালেই পঞ্চায়েত দফতরে এই নিয়োগ করা হবে। ১০০০ কনট্রাক্টচুয়াল কর্মী নেওয়া হচ্ছে। কর্মী কম থাকার কারণে যাতে কাজ আটকে না থাকে সেই বিষয়টা দেখা হচ্ছে।” অর্থাৎ, স্থায়ী পদে ৭,১৯০ জন নিয়োগের পাশাপাশি আরও ১,০০০ জন চুক্তিভিত্তিক কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্যের। বিভিন্ন প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা PSC-র মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনাও রয়েছে। আগামী বছরের এপ্রিল মাসের মধ্যে নিয়োগ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রার কথাও জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, পঞ্চায়েত দফতরে কর্মী নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে এর আগেও একাধিকবার মুখ খুলেছিলেন দফতরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। গত মে মাসে দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি জানিয়েছিলেন, আগের সরকারের আমলে প্রায় ৬,৫০০ জনের একটি নিয়োগের তালিকা তৈরি হলেও তা কার্যকর হয়নি। সেই তালিকা নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের কথাও বলেছিলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য ছিল, পর্যাপ্ত কর্মী না থাকায় পঞ্চায়েতের বিভিন্ন জায়গায় জনহিতকর কাজ আটকে যাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছতেও দেরি হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে পঞ্চায়েতের তিনটি স্তরে প্রায় ১১ হাজার কর্মী নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছিলেন মন্ত্রী। পাশাপাশি, নিয়োগ প্রক্রিয়া জেলা স্তরের পরিবর্তে PSC-র মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনার পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছিল তাঁর বক্তব্যে।
আরও পড়ুন: ফর্ম-৬ বিতর্কে কমিশনের অবস্থান বদল, জ্ঞানেশ কুমারকে ফের নিশানা অভিজিৎ দীপকের
পঞ্চায়েত দফতরে এই বিপুল সংখ্যক কর্মী নিয়োগ হলে একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে গ্রামীণ প্রশাসনের দীর্ঘদিনের কর্মী সঙ্কটও অনেকটা মেটানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইঞ্জিনিয়ার-সহ বিভিন্ন পদে পর্যাপ্ত কর্মী না থাকায় রাস্তা, পানীয় জল, আবাসন এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে যে সমস্যা তৈরি হয়, নতুন নিয়োগের ফলে তা কমতে পারে। ব্লক ও পঞ্চায়েত স্তরে কর্মীর সংখ্যা বাড়লে প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগোনোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষও সরকারি পরিষেবা আরও সহজে পাবেন। বলাই বাহুল্য, এই নিয়োগ শুধু চাকরিপ্রার্থীদের জন্যই নয়, রাজ্যের গ্রামীণ পরিকাঠামো ও পরিষেবা ব্যবস্থার উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে।