সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এবার লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে চাকরি না দেওয়ার অভিযোগ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের (Sumit Roy) বিরুদ্ধে। মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরার বিরুদ্ধে ডেবরা থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। সেই এফআইআরের সূত্র ধরেই সুমিতের নাম উঠে আসে। সূত্রের খবর, চাকরি দেওয়ার বিনিময়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছিল সুজয় হাজরা। যার পিছনে হাত ছিল অভিষেকের আপ্তসহায়কের। ইতিমধ্যেই তাঁর খোঁজ চালাচ্ছে গোয়েন্দা বিভাগ এবং লুকআউট সার্কুলার জারি করে ফেলেছে সিআইডি।
বড় অভিযোগ সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে
উল্লেখ্য, পুলিশি হেফাজতে থাকা সুজয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করাতেই সুমিত রায়ের নাম উঠে আসে। তিনিই তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক। সুজয় হাজরার বিরুদ্ধে ডেবরা থানায় যে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল সেখানেই নাম জড়িয়েছে সুমিতের। গত ১৬ জুন প্রসেনজিৎ রায় নামে এক অভিযোগকারী জানান যে, ১২টি সরকারি পদে চাকরির জন্য ৩ লক্ষ টাকা করে দাবী করা হয়েছিল। প্রথম পর্যায়ে তিনি ১২ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই টাকা প্রতারণা করে নেওয়া হয়। চাকরি দেওয়া হয়নি।
প্রসেনজিতের অভিযোগ অনুযায়ী, ডেবরার একটি হোটেলে আশিক নামে একজনের সঙ্গে সুজয় পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন যে আশিক নবান্নের কর্মী। এরপর অভিযোগকারী সহ মোট ১২ জনকে খাদ্য ভবন এবং বিকাশ ভবনে নিয়ে গিয়েছিলেন আশিক। তারপর সেখানে মেডিকেল পরীক্ষা করানো হলেও চাকরি মেলেনি। এমনকি সেখানে আরও টাকার দাবি করেন আশিক, এবং তিনি বলেন যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ককে এই টাকা দিতে হবে। তবেই চাকরি মিলবে। তারপর তাদের হাতে কিছু কালার জেরক্সের নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু আদতে সেগুলি ভুয়ো নিয়োগপত্র ছিল।
আরও পড়ুন: সুযোগ পেলেই ১০০ কোটি, ফুটবল বিশ্বকাপ জিতলে কত দেয় ফিফা?
সবথেকে বড় ব্যাপার, প্রকৃত নিয়োগপত্র না দেওয়ায় টাকা চাইতে গেলেই মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। সেই কারণেই এবার সুমিতের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে এফআইআর। এমনিতেই তাঁর খোঁজে শালবনি থানার পুলিশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিশ জারি করা হয়েছে। তাছাড়া তাঁর শ্বশুরবাড়িতে পুলিশি অভিযান চালালেও সেখানেও হদিশ মেলেনি। তারই মধ্যে আবারও এক মামলায় জড়িয়ে গেল সুমিতের নাম।