চাকরি অনিশ্চয়তার চাপে আত্মঘাতী যোগ্য শিক্ষিকা, তদন্তে পুলিশ

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ফের চাকরি অবসাদে আত্মহত্যা (Suicide) করলেন ২০১৬ সালের এসএসসি প্যানেলের এক ‘যোগ্য শিক্ষিকা’। ঘটনাটি ঘটেছে, পুরুলিয়ার (Purulia) ভাটবাঁধ এলাকায়। অভিযোগ, আদালত আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চাকরি থাকার নির্দেশ দিয়েছিল, আর সেই অনুযায়ী আর ১ মাস হাতে চাকরি থাকায় দিনের পর দিন অবসাদে ভুগছিলেন বছর ৩৪ এর শিক্ষিকা ঈপ্সিতা দাস মহাপাত্রের। শেষে এই চাপ থেকে মুক্তি পেতে একাধিক ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করলেন শিক্ষক। ঘটনাকে ঘিরে শোরগোল পড়ে যাওয়ায় তদন্তে নামল পুরুলিয়ার পুলিশ।

ঠিক কী ঘটেছিল?

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্যানেলে নাম ছিল পুরুলিয়া শহরের ভাটবাঁধ এলাকার বাসিন্দা ঈপ্সিতা দাস মহাপাত্রের। আর সেই সূত্রেই তিনি পুরুলিয়া-২ ব্লকের একটি উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা পড়াতেন। কিন্তু নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডের অভিযোগে হাইকোর্ট ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেয়, স্বাভাবিকভাবেই, ঈপ্সিতা দেবীর চাকরিও চলে যায়। যদিও পড়ে আদালতের নির্দেশে সকলের মত তাঁরও চাকরির মেয়াদ ছিল চলতি বছরের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। এদিকে গতবছর দিন রাত পড়াশোনা করেও এসএলএসটি পরীক্ষায় ভালো ফল করতে পারেননি তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন। শেষে চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার মত চরম সিদ্ধান্ত নিলেন শিক্ষিকা।

চাপ নিতে না পেরে আত্মহত্যা!

জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমের ওষুধ খাওয়ার ফলে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন ৩৪ বছর বয়সি স্কুল শিক্ষিকা ঈপ্সিতা দাস মহাপাত্র। তড়িঘড়ি তাঁকে পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করানো হয়েছিল কিন্তু আজ, সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। কান্নায় ভেঙে পড়েছে গোটা পরিবার। তাঁদের দাবি, ঈপ্সিতা কাউকে টাকা দিয়ে চাকরি পাননি। তিনি একজন যোগ্য প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু কয়েকজনের জন্য তাঁরও চাকরি গেল। আমরা সঠিক বিচার চাই। এদিকে ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঈপ্সিতার দেহের ময়নাতদন্ত করানোর পাশাপাশি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ।

আরও পড়ুন: ডিমের দাম ১০ ছুঁইছুঁই, কী কারণে এই ঊর্ধ্বগতি?

যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই মৃত্যুর দায় এসএসসির। অন্যদিকে চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চের পুরুলিয়া কোর কমিটির সদস্য শুভাশিস পান বলেন, ‘‘আমাদের অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকাই চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। কারণ ৩১ আগস্ট আমাদের চাকরির সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পরেও এখনও পর্যন্ত নতুন সরকার আমাদের জন্য সহানুভূতিশীল হয়ে একটি বাক্যও ব্যয় করেনি। দেখা যাক কী হয়।’’

Leave a Comment