সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে একটি চিনা পুতুল। ‘নাতাশা ডল’ (China Natasha Doll) নামের ছোট্ট পুতুলটি নিয়ে তোলপাড় সমাজমাধ্যম। আসলে এই পুতুলের পেছনে রয়েছে এক বর্ণবাদ এবং সহিংসতার গুরুতর অভিযোগ। কারণ, ওই পুতুলটিকে দেখতে একজন শ্যামবর্ণ শিশুর মতো। সেই কারণেই কেউ ওই পুতুলটিকে ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছে, কেউ ধরে টান মারছে, কেউ আঘাত করছে, এমনকি যে যেদিক থেকে পারছে ক্ষতি করছে। এবার বুঝতেই পারছেন এগুলি কারা করছে! আর এই নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে এখন বর্ণবৈষম্য তুঙ্গে উঠেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় নাতাশা ডল ঘিরে বিতর্ক
আসলে ধীরে ধীরে ফুলে ওঠা মেমোরি ফোম দিয়ে তৈরি এই পুতুলগুলিকে দেখতে অবিকল শিশুদের মতো, এবং এগুলো বিশেষ করে সাদা, বাদামি ও কালো রঙে পাওয়া যায়। নাতাশা ডল (Natasha Doll) যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় তখন সেটিকে একজন ভ্লগার শ্যামবর্ণ বলে আখ্যা করে ‘নাতাশা’ নাম দেন। তখন থেকেই সেটি ট্রেন্ডে উঠে এসেছে। এমনকি তা এতটাই জনপ্রিয়তা লাভ করে যে তার ক্যান্ডি সংস্করণগুলিও বাজারে চলে এসেছে। কিন্তু এক শ্রেণীর মানুষ এই পুতুলটিকে ঘিরেই নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে। কেউ পুতুলটিকে দেয়ালে ছুঁড়ে মারছে, কেউ সাইকেল দিয়ে চাপা দিচ্ছে, এমনকি কেউ কেউ টয়লেটে ফ্লাশ করে দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুতুলটি একজন কৃষ্ণাঙ্গ শিশুর আদলে তৈরি হওয়া। সেই কারণেই বর্ণবাদী মনোভাব উস্কে দিচ্ছে এক শ্রেণীর মানুষ। অনেকেই এটিকে কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের প্রতি অপমান বলেই অভিহিত করছেন। এমনকি মানবাধিকার কর্মী থেকে শুরু করে সামাজিক সংগঠন এবং সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরাও এই প্রবণতার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন। তাদের দাবি, বিনোদনের জন্য কোনও জাতি বা সম্প্রদায়কে টার্গেট করে এরকম খেলনা বানানো উচিত নয়। এ থেকে বর্তমান শিশু এবং সমাজের উপর খারাপ প্রভাব পড়তে পারে। কিন্তু কিছুতেই কাজ হচ্ছে না।
🇨🇳 A stress-relief doll called “Natasha” is going viral in China.
The dark-skinned version has become the top seller, but some members of China’s Black community are calling the toy “absolutely diabolical.”
What do you think?
Writer: Daniyal, Oliverpic.twitter.com/GYk2sHC84O
— Mario Nawfal (@MarioNawfal) June 13, 2026
আরও পড়ুন: মোদীর মুকুটে নয়া পালক! সেশেলসের সর্বোচ্চ সম্মান পেলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী
নাতাশা ডলের ওই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন ট্রেন্ডিং। তবে নেট নাগরিকরা এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। অনেক ব্যবহারকারী এই ট্রেন্ডটিকে বন্ধ করার দাবি জানান। অনেকেই মনে করছেন, কোনও সম্প্রদায়ের পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত একটি চরিত্রকে সহিংসতার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে সমাজে একটি নেতিবাচক বার্তা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি পরিমাণে ভিউ পাওয়া এবং ভাইরাল হওয়ার জন্য মানুষ এই সমস্ত সংবেদনশীল বিষয়গুলিকে উত্থাপন করে।