সৌভিক মুখার্জী, তারাপীঠ: তারাপীঠে (Tarapith) গিয়ে এদিন মায়ের পুজো দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকেই জেলার উন্নয়নের জন্য একাধিক ঘোষণা করেন তিনি। তবে মুখ্যমন্ত্রী আসবেন শুনে সেখানে ছুটে যান এক নিখোঁজ সন্তানের পিতা। প্রায় ছয় মাস ধরে নিরুদ্দেশ তাঁর মেয়ে। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেও মেলেনি কোনও খোঁজ। অবশেষে মেয়ের ছবিসহ প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ অর্ধেন্দু সিং। এমনকি শুভেন্দু অধিকারীর কাছে মেয়ের খোঁজ চালাতে কাতর আবেদন জানিয়েছেন অসহায় বাবা।
মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ নিখোঁজ নাবালিকার পিতা
সূত্রের খবর, গত ১৩ মার্চ অর্ধেন্দু সিংয়ের মেয়ে অমৃতা সিং নিখোঁজ হয়। তার পরপরই সিউড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। এমনকি পুলিশের পাশাপাশি সিআইডিকেও তদন্তের দায়িত্বভার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মেলেনি কোনও খোঁজ। প্রায় ছয় মাস ধরেই নিখোঁজ অর্ধেন্দু বাবুর মেয়ে। দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে তাঁর পরিবার। শেষমেশ কূলকিনারা না পেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। বীরভূমের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরি করলেও মেয়ের খোঁজ মেলেনি বলেই দাবি ওই ভবঘুরে বাবার। এমনকি প্ল্যাকার্ড হাতে রাজ্যের আরও বেশ কিছু জায়গায় তিনি ঘুরেছেন।
আক্ষেপের সুরে এদিন ওই অসহায় বাবা মিডিয়ার সামনে জানান, “আমার মেয়ে হারিয়ে গিয়েছে। আমি এখনও খোঁজ পাইনি। ৬ মাস হতে চলল। আমি মুখ্যমন্ত্রীকে জানাতে এসেছি এবং একটি লেটার সঙ্গে নিয়ে এসেছি। যাতে লেটারটি দিতে পারি, এবং উনি যেন আমাকে ব্যবস্থা করে দেন। পুলিশও কোনও হেল্প করছে না। আমি অসহায় অবস্থায় আছি। আমার মিসেস অসুস্থ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। আমি কিছুই করতে পারছি না। আমি সিউড়ি থেকে সকালবেলা চলে এসেছি। আমার সঙ্গে উনার দেখা হবে কিনা জানি না। যাতে দেখা হয় তার ব্যবস্থা সবাই করুন।”
আরও পড়ুন: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ছাদেই চলছে উদ্দাম যৌনতা? ভাইরাল ভিডিও
তিনি আরও জানান, “এই লেটারটা আমি মুখ্যমন্ত্রীর হাতে দেব। আমি মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু পারিনি যেতে। তারাপীঠ এসেছি, যাতে ওনার সঙ্গে দেখা করতে পারি এবং আমার মেয়ের খোঁজ পাই।” এমনকি মায়াপুর গিয়েও তিনি তাঁর নিখোঁজ মেয়ের খোঁজ পাননি বলেই জানান। ইসকন সহ বিভিন্ন জায়গায় তিনি ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে সব জায়গা থেকে হতাশ হয়েই ফের বীরভূমে ফিরে আসেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে হয়তো কোনও আশার আলো মিলতে পারে, এমনটাই অনুমান তাঁর।