জোড়াফুল ‘ফ্রিজ’ করার সিদ্ধান্ত বেআইনি.. কমিশনকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মমতা

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: তৃণমূলের প্রতীক দ্বন্দ্ব নিয়ে ব্যাপক শোরগোল রাজ্য রাজনীতিতে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী জোড়াফুল প্রতীক ‘ফ্রিজ’ হওয়ার পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দলের নাম জানিয়ে দিয়েছিল। এরপর সমস্ত দিক বিবেচনা করে আজই দুই শিবিরের নাম ও প্রতীক চূড়ান্ত করে দেয় কমিশন। কিন্তু জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (Election Commission Of India) সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করার সিদ্ধান্তকে বেআইনি বলে দাবি করলেন মমতা। তাই সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে এবার সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ হলেন তিনি। দায়ের করা হল মামলা।

দুই শিবিরের প্রতীকের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও তার জোড়াফুল প্রতীককে ফ্রিজ করে দিয়েছিল৷ ফলে আসন্ন উপনির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর কেন্দ্রে মমতাপন্থী তৃণমূল ও বিদ্রোহী ঋতব্রত শিবির কেউই এই ঘাসফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছিল। এবং বলা হয়েছিল দুই শিবিরকে আজ, শুক্রবার সকাল ১১ টার মধ্যে তিনটি করে নাম ও প্রতীক জানাতে৷ সেই অনুযায়ী আজ নাম দেওয়া হলে দুই দলের নাম ও প্রতীকের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।

কংগ্রেস প্রার্থীকে গ্রেফতার পুলিশের

জানা গিয়েছে নির্বাচন কমিশন মমতাপন্থীদের জন্য ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসে’ নাম ও ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীকটি নির্ধারণ করে৷ এবং ঋতব্রত শিবিরের জন্য বরাদ্দ করা হয় ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ ও ‘খাম’ প্রতীক। কিন্তু এর মধ্যেই নন্দীগ্রামের মমতাপন্থী তৃণমূলের প্রার্থী নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। শুধু তাই নয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করে ঘোষণা করেছিলেন যে, তাঁরা নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করবেন। কিন্তু অবাক করা বিষয়, সেই ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরনো একটি মামলায় কংগ্রেস প্রার্থীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যা নিয়ে শুরু হয়ে নয়া রাজনৈতিক চাপানউতোর। আর এই অবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের দারস্ত হলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: SSC-র ২৬ হাজার চাকরি বাতিল মামলায় বড় রায় হাইকোর্টের

সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের মমতার

প্রতীক নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্তকে প্রথম থেকেই কখনও ‘অগণতান্ত্রিক’ আবার কখনও অবৈধ বলে আক্রমণ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দল। এবার সেই একই অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মামলায় যুক্ত করা হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে আগামী সপ্তাহেই প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে শুনানি হতে পারে। যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি মামলা দায়ের হলেও রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে কমিশনের এই অন্তর্বর্তীকালীন সিদ্ধান্ত আটকানো সম্ভব নয়। ফলে এই মামলা অনর্থক। এখন দেখার সুপ্রিম কোর্ট কী রায় দেয়।

Leave a Comment