বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: আরও বিপদে ভারতীয় শিল্পপতি অনিল আম্বানি। এবার লাইফ ইন্সুরেন্স কর্পোরেশন (Life Insurance Corporation) বা LIC এর সাথে যুক্ত 2,684 কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে রিলায়েন্স ক্যাপিটাল লিমিটেড এবং সংস্থাটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান অনিল আম্বানির (Anil Ambani) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করল খোদ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা CBI। তবে শুধু অনিল আম্বানি নন, সেই সাথে গুরুতর অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে সংস্থাটির প্রাক্তন ম্যানেজিং ডিরেক্টর সতীশ শেঠ সহ আরও বেশ কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মুকেশ আম্বানির ভাইয়ের মুখপাত্র।
বড় অভিযোগ LIC-র
সংবাদ সংস্থা PTI এর রিপোর্ট অনুযায়ী, লাইফ ইন্সুরেন্স কর্পোরেশনের অভিযোগ, 2012 সালের 12 এপ্রিল থেকে 2018 সালের 9 মার্চের মধ্যে রিলায়েন্স ক্যাপিটাল লিমিটেডের ইস্যু করা পাঁচটি নন-কনভার্টিবল ডিবেঞ্চারে মোট 3900 কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিল তারা। মূলত সংস্থাটির পুরনো ঋণ পুনরায় অর্থায়ন করা থেকে শুরু করে ফান্ড জমা করার জন্যই এই অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছিল। তবে ভারতের এই সরকারি বীমা সংস্থাটি জানিয়েছে, অনিল আম্বানি সহ অন্যান্য অভিযুক্তরা একেবারে ষড়যন্ত্র করে তাদের বিনিয়োগ করতে রাজি করিয়েছিলেন।
লাইফ ইন্সুরেন্স কর্পোরেশন একেবারে খোলাখুলি অভিযোগ করেছে, প্রথমদিকে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করার পর সেই অর্থ নাকি অন্য অ্যাকাউন্টে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আর ঠিক সেই কারণেই সবমিলিয়ে 2,684 কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে তাদের। মূলত এমন দাবিতেই মুকেশ আম্বানির দাদা অনিল সহ রিলায়েন্স ক্যাপিটাল লিমিটেডের সাথে যুক্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ, এমনকি কারচুপির মতো অভিযোগ তুলেছে LIC। আর এমন অভিযোগেই এবার অনিলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে CBI।
আরও পড়ুন: জানেন কেন ইলেকট্রিক প্লাগের পিন কাটা থাকে? রইল তথ্য
যদিও, লাইফ ইন্সুরেন্স কর্পোরেশনের যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অনিল আম্বানির একজন মুখপাত্র। তাঁর দাবি, CBI যে মামলা দায়ের করেছে সেটা রিলায়েন্স ক্যাপিটাল লিমিটেডের সাথে সম্পর্কিত। অনিল আম্বানি এখন আর সেই সংস্থার চেয়ারম্যান নন। 2005 সাল থেকে 2021 সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত ওই সংস্থার চেয়ারম্যান পদে ছিলেন তিনি। ওই ব্যক্তি এও জানান, 2021 সালের নভেম্বর মাসেই রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া রিলায়েন্স ক্যাপিটাল এর পরিচালনা পর্ষদ সরিয়ে দিয়ে একজন প্রশাসক নিয়োগ করেছিল। অনিল আম্বানি কোনও ধরনের অনিয়মের সাথে যুক্ত নন।