সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আসল তৃণমূল (Trinamool Congress) কারা? মমতা নাকি ঋতব্রত শিবির তা এখনও স্পষ্ট করে জানায়নি নির্বাচন কমিশন। এদিকে উপনির্বাচনে লড়ার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক এবং নাম দুটোই ফ্রিজ করা হয় ইসিআই-এর তরফ থেকে। পাশাপাশি দুই তৃণমূলকেই নতুন নাম এবং প্রতীক বেছে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে সামনেই পুরভোট। তৃণমূলের নাম, প্রতীক নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে এখনও পর্যন্ত মামলা বিচারাধীন। আজ অর্থাৎ সোমবার দুই পক্ষের হলফনামা জমা দেওয়ার ডেডলাইন ছিল। তবে নতুন করে সময় চাইল ঋতব্রত তৃণমূল।
সময়সীমার মধ্যে নথি জমা দিল না ঋতব্রত তৃণমূল
গতদিনের শুনানিতে কালীঘাট এবং ঋতব্রত তৃণমূল, দুই পক্ষকেই সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে আজ অর্থাৎ সোমবার সেই নথি জমা দেওয়ার শেষ সময়সীমা ছিল। কিন্তু কালীঘাট তৃণমূল নথি জমা দিলেও গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস অর্থাৎ তৃণমূলের তরফ থেকে এদিন নথি জমা দেওয়া হয়নি। এমনকি নতুন করে আদালতের কাছে ঋতব্রতর আইনজীবী আরও সময় চেয়ে নেন। সেই আবেদন মঞ্জুর করে অতিরিক্ত ১০ দিন সময় দেওয়া হয় বিরোধী শিবিরকে। দুই পক্ষকেই ১০ দিন করে মোট ২০ দিনের সময় দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।
জানিয়ে রাখি, এবারের বিধানসভা নির্বাচনের পর একেবারে ভরাডুবি হয় তৃণমূল কংগ্রেসের। ১৫ বছরের সবুজ দুর্গ দখল করে গেরুয়া শিবির। তবে ভরাডুবির পরপরই ভাঙন লাগে ঘাসফুল শিবিরে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬০-র বেশি বিধায়ক নিজেদের বিরোধী বলে ঘোষণা করেন এবং তাঁরা তৈরি করে ফেলেন নব্য তৃণমূল। অন্যদিকে কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়সহ জন ২০ বিধায়ক মমতার ছত্রছায়ায় কালীঘাট শিবিরে পড়ে থাকেন। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিচারে ঋতব্রতদেরকে বিরোধী দল হিসেবে ঘোষণা করে বিধানসভা।
আরও পড়ুন: হবে সরকারি প্রকল্প থেকে ব্যাঙ্কের যাবতীয় কাজ, বাংলায় বসছে ৭০ দিনের বিশেষ ক্যাম্প
ইতিমধ্যে নাম এবং প্রতীক দুটোই হারিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে আজ মামলার শুনানিতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী আবেদন জানান যে এক মাসের মধ্যেই যাবতীয় নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়সীমা শেষ হচ্ছে আজ। তবে নথি জমা দিতে আরও দুই সপ্তাহ সময় চান আইনজীবী। দুর্গাপুজোর কারণে স্ট্যাম্প পেপার পাওয়া যায়নি বলেই যুক্তি দেন তিনি। সেই আবেদন মঞ্জুর করে অতিরিক্ত ১০ দিন সময় দেওয়া হয় আদালতের তরফ থেকে।