টানা বৃষ্টি ও ধসে অ্যালার্ট উত্তরাখণ্ডে, বন্ধ কেদারনাথ যাত্রা

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: প্রবল বর্ষণে এখনও পর্যন্ত বিপর্যস্ত উত্তরাখণ্ড (Uttarakhand Flood)। আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে কেদারনাথ যাত্রা। পাহাড়ি ঢাল থেকে বিরাট বিরাট পাথর এবং কাদা ধসে পড়ায় বন্ধ গৌরীকুণ্ডে যাওয়ার রাস্তা। সূত্রের খবর, গৌরীকুণ্ড গেটের মাত্র ২০০ মিটারের মধ্যেই আশঙ্কা বড় বড় পাথর এবং গাছ উপর পড়ছে। সেই কারণেই তীর্থযাত্রীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে উত্তরাখণ্ড সরকার আপাতত কেদারনাথ যাত্রা বন্ধ রেখেছে। কার্যত গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতে পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক।

প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে বন্ধ কেদারনাথ যাত্রা

আসলে টানা কয়েকদিন মুষলধারে বৃষ্টিপাতের জেরে মন্দাকিনী নদীর জলস্তর বিপজ্জনক সীমার উপরে পৌঁছে গিয়েছে। পাশাপাশি একাধিক জায়গায় ভূমিধসের মতো ঘটনা ঘটছে। এমনকি পাহাড় থেকে বড় বড় পাথরের চাং রাস্তার উপর পড়ে সড়ক এবং গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ইতিমধ্যেই উত্তরাখণ্ড সরকারের তরফ থেকে জারি করা হয়েছে লাল সতর্কতা। এ বিষয়ে রুদ্রপ্রয়াগের জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা আধিকারিক জানিয়েছেন, সোনপ্রয়োগে আপাতত তীর্থ যাত্রীদেরকে আটকে রাখা হয়েছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রাস্তা পরিষ্কারের কাজ চলছে। তবে রাস্তাটি সম্পূর্ণ পরিষ্কার এবং নিরাপদ ঘোষণা করার পরেই তাদেরকে এগোতে দেওয়া হবে।

এমনকি সবথেকে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে অগস্ত্যমুনির শিল্লি এলাকায়। বেশ কিছু সূত্র অনুযায়ী খবর, মন্দাকিনী নদীর জলস্তর এতটা বেড়েছে যে কেদারনাথ জাতীয় সড়কের একটি বড় অংশ সম্পূর্ণ নদীগর্ভের তলায় চলে গিয়েছে। এমনকি নদীর তীব্র ভাঙন আর বৃষ্টিপাতের কারণে স্থানীয় জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। নিচু এলাকার বাসিন্দাদের ঝুঁকি দিনের পর দিন বাড়ছে। যদিও প্রশাসন সংবেদনশীল এলাকার দিকে নজর রাখছে। সবথেকে বড় ব্যাপার, পাহাড় থেকে অবিরাম ধসের কারণে প্রায় ৮০টি গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হয়েছে সরকারের।

আরও পড়ুন: ২১ জুলাই বেশি জমায়েতে তৃণমূলের উপর অসন্তুষ্ট হাইকোর্ট, পদক্ষেপ নেবে আদালত?

ইতিমধ্যেই মৌসুম ভবনের তরফ থেকে উত্তরাখণ্ড রাজ্যজুড়ে হলুদ সর্তকতা জারি করা হয়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে মন্দাকিনীর পাশাপাশি অন্যান্য নদীর জলস্তরও মাথাচাড়া দিয়ে বাড়ছে। এমনকি প্রবল ধসের কারণে কেদারনাথের পথের পাশাপাশি চামোলি জেলার পোখরি-রুদ্রপ্রয়াগ জাতীয় সড়ক সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। এর পাশাপাশি যমুনোত্রী জাতীয় সড়কও বন্ধ। এমনকি জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই জলস্তর বাড়ার কারণে ভাগীরথী নদীর থেকে ১০০ কিউসেক জল ছেড়েছে। নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সরকারের তরফ থেকে স্পষ্ট দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে তবেই কেদারনাথ যাত্রা আবারও চালু করা হবে।

Leave a Comment