সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ সকল প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চালু হয়েছে শিক্ষকদের বদলির (Teacher Transfer) জন্য উৎসশ্রী পোর্টাল (Utsashree Portal)। এই পোর্টাল বাংলার শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীদের জন্য যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রায় চার বছর স্থগিত থাকার পর রাজ্য সরকার বুধবার উৎসশ্রী পোর্টালটি পুনরায় চালু করেছে, যার ফলে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীরা অনলাইনে বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। যদিও এখন নতুন আবেদন নিয়ে সরব হলেন শিক্ষক সমাজ। এবার তাঁদের দাবি, এই বদলি প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, দ্রুত ও কার্যকর করতে হবে। এই নিয়ে ১৪ দফা দাবি অবধি সরকারের কাছে পেশ করলেন সকলে।
সরকারের কাছে ১৪ দফা দাবি পেশ শিক্ষক সমাজের
জানা গিয়েছে, গতকাল শনিবার এই ১৪ দফা দাবি পেশ করে শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ। এই মঞ্চ স্কুল শিক্ষা মন্ত্রী এবং স্কুল শিখা দফতরের কমিশনারের উদ্দেশ্যে ই-মেইল করে এবং সেখানে দাবিগুলি পেশ করা হয়। এমনটাই জানিয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী। স্কুল শিক্ষা বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা এবং মাধ্যমিক শিক্ষা শাখা কর্তৃক ৩০ জুন জারি করা পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে বিদ্যমান নিয়ম ও পদ্ধতি অনুসারে সকল শ্রেণীর বদলির আবেদনের অনলাইন প্রক্রিয়াকরণ পুনরায় চালু করা হয়েছে।
চালু উৎসশ্রী পোর্টাল
দীর্ঘ অপেক্ষার পর পোর্টাল চালু হলে বিভিন্ন ত্রুটি নাকি ধরা পড়েছে। আর অবিলম্বে সেগুলিরই সমাধান করার দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনের দাবি, অতীতে বদলির যে আবেদন করা হয়েছিল সেইগুলি প্রথমে সুরাহা করতে হবে। একই সঙ্গে বিভাগ সংক্রান্ত জটিলতা মিটিয়ে সাধারণ বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষকেরা যেন উচ্চমাধ্যমিক বিভাগে বদলির সুযোগ পান সেটাও বিবেচনা করতে হবে। কিঙ্কর অধিকারী বলেন, ‘প্রস্তাবগুলি কার্যকর হলে উৎসশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে বদলি প্রক্রিয়া আরও বাস্তবসম্মত হবে।’
আরও পড়ুনঃ জন্ম দিবসের আগেই কলকাতার বুকে ভাঙা হল শ্যামাপ্রসাদের মূর্তির বেদী, অ্যাকশন নেবে শুভেন্দু সরকার?
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৯শে সেপ্টেম্বর তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার উৎসবশ্রী পোর্টালটি স্থগিত করে। এরপর পর্যায়ক্রমে এই স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হয়, সর্বশেষ তা ২০২৬ সালের ৩০শে জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন কর্তৃক পরিচালিত সহকারী শিক্ষক এবং গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি কর্মীদের জন্য চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সরকার এই স্থগিতাদেশ অব্যাহত রাখার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিল।