আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: দীপাবলি ও কালীপুজোর মরশুমে অনেকেই ছুটি কাটাতে বাড়িতে ফেরেন, আবার অনেকেই ঠাকুর দেখতে যান। ফলে ট্রেনে যাত্রীদের ভিড় বাড়ে। এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দাহ্য ও বিস্ফোরক সামগ্রী বহনের ক্ষেত্রে কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে রেলের (Railway Service)। আতশবাজি, পটকা, রকেট, স্পার্কলার-সহ বিভিন্ন ধরনের বাজি (Firecrackers) ট্রেনের (Train) কামরা বা লাগেজ ভ্যানে নিয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। শুধু বাজিই নয়, পেট্রল, ডিজেল, কেরোসিন, গ্যাস সিলিন্ডার এবং অন্যান্য দাহ্য পদার্থও ট্রেনে বহন করা যায় না।
কেন এই নিষেধাজ্ঞা?
রেলের এই কড়াকড়ির পিছনে রয়েছে যাত্রীদের নিরাপত্তা। ট্রেনের কামরায় একসঙ্গে বহু মানুষ যাতায়াত করেন। সেখানে বাজি বা বিস্ফোরক সামগ্রী থাকলে সামান্য আগুন, অতিরিক্ত তাপ কিংবা ঘর্ষণ থেকেও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই নিজের পাশাপাশি অন্য যাত্রীদের জীবন সুরক্ষিত রাখতেই এই ধরনের সামগ্রী বহনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রেল।
রেলের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ বাজি-পটকা বা বিপজ্জনক সামগ্রী নিয়ে ট্রেনে উঠলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। শুধু সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেই বিষয়টি শেষ হবে না, সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী রেল কর্তৃপক্ষ নিষিদ্ধ সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে এবং আইন মেনে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।
কত টাকা জরিমানা, কত বছরের জেল?
রেলওয়ে আইনের ১৬৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী, বেআইনিভাবে বিপজ্জনক সামগ্রী বহন করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড অথবা ১,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা কিংবা দুটোই হতে পারে। অন্যদিকে, ২০২৬ সালের সংশোধিত আইনে ১৬৫ নম্বর ধারায় নিষিদ্ধ সামগ্রী বেআইনিভাবে রেল চত্বরে আনার ক্ষেত্রে ন্যূনতম ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। এর পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতি হলে তার দায়ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিতে হবে। জরিমানা দিতে অস্বীকার করলে আদালতের নির্দেশে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড অথবা ন্যূনতম ১০ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা দুটোই হতে পারে। তবে কোন ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা অপরাধের আইনি শ্রেণিবিভাগের উপর নির্ভর করবে।
আরও পড়ুন: মাত্র ১০ টাকায় হলুদ হবে বাগান! রইল বাড়িতে গাঁদা ফুলের গাছ করার সহজ পদ্ধতি
উৎসবের মরশুমে যেকোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রেল স্টেশন, ট্রেন এবং পার্সেল বিভাগে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। রেল সুরক্ষা বাহিনী বা RPF-এর তরফে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। যাত্রীদেরও ট্রেনে ওঠার আগে নিজেদের ব্যাগ ও লাগেজ ভালোভাবে পরীক্ষা করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারও কাছে সন্দেহজনক বা বিপজ্জনক কোনও সামগ্রী নজরে এলে অবিলম্বে রেলকর্মী বা RPF-কে জানানোর আবেদন করা হয়েছে। প্রয়োজনে ১৩৯ নম্বরে ফোন করে অথবা Rail Madad পোর্টালের মাধ্যমেও অভিযোগ জানানো যাবে।