সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মার্কিন ডলারের বিপরীতে বেশ খানিকটা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল ভারতীয় টাকা (Indian Rupee)। যেখানে সম্প্রতি প্রায় ৯৭-র স্তর ছুঁয়ে ফেলেছিল, সেখানে আবারও দাম বাড়িয়ে প্রায় ৯৫-র কাছাকাছি এসে ঠেকে। তবে বিগত তিন-চার দিন ফের ডলারের বিপরীতে অবমূল্যায়ন হচ্ছে ভারতীয় টাকার। আজও ১০ পয়সা কমে প্রতি ডলারের দাম দাঁড়িয়েছে ৯৫.৩১ টাকা, যেখানে আগের সেশনে এই রেট ছিল ৯৫.২১ টাকা।
ডলারের বিপরীতে ফের টাকার মূল্যপতন
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ সম্প্রতি মাথাচাড়া দিয়ে দাঁড়াতে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বগতিতে ঠেকে। যেখানে সম্প্রতি ৮০ ডলারের নিচে নেমে এসেছিল ব্রেন্ট ক্রুড ওয়েলের দাম, সেখানে মুহূর্তের মধ্যে তা আবার ৮৫ ডলারের উপরে উঠে যায়। সেই কারণে গোটা বিশ্বজুড়ে তৈরি হয় চরম অস্থিরতা। আর যেহেতু ভারতকে তার সিংহভাগ তেল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি থেকে তেল আমদানি করে ভারত, তাই তেলের দাম বাড়ার কারণে ডলারের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ায় টাকার এই মূল্যপতন।
যদিও এক বিশেষজ্ঞ জানাচ্ছেন, দেশের ইতিবাচক বাজার দরপতনের এই প্রভাবকে কিছুটা হলেও সামলে ফেলেছে। হয়ত আগামী দিনে আবারও টাকা দাম ডলারের বিপরীতে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। পাশাপাশি তিনি আরও জানিয়েছেন, এই সপ্তাহে মার্কিন মুদ্রাস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে ব্যবসায়ীরা সতর্ক থাকতে পারেন। কারণ, ডলার প্রতি ভারতীয় রুপির স্পট মূল্য আনুমানিক ৯৫ থেকে ৯৫.৬০ এর মধ্যেই ঘোরাফেরা করতে পারে। এমনকি ছয়টি মুদ্রার বিপরীতে ডলারের শক্তি পরিমাপকারী সূচক অর্থাৎ ডলার ইনডেক্স আজ সকালে ০.১৩ শতাংশ বেড়ে লেনদেন হয় ৯৯.৬৬-তে।
আরও পড়ুন: রাজ্য সরকারের উদ্যোগে গোটা বাংলায় পালিত হবে রাখি বন্ধন উৎসব, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
অন্যদিকে ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যপতন হলেও দেশের ফরেক্স রিজার্ভ বা বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার কিন্তু অনেকটাই বেড়েছে। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৩১ জুলাই শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার ১০.৫১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯২.৮৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। পাশাপাশি দেশের শেয়ার মার্কেটও বর্তমানে ইতিবাচক। সেনসেক্স আজ ৪৩.২৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮.৫৪২.৪৪ পয়েন্টে। অন্যদিকে নিফটি ১৩.১৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪,৫৮৩.৮০ পয়েন্টে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি ডলারের বিপরীতে টাকা আবারও বেশ খানিকটা ঘুরে দাঁড়ায়, তাহলে শেয়ারবাজারে আরও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।