তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে হিসাব নেই ১৬৪ কোটি টাকার, এবার ব্যাঙ্কে চিঠি ইডির

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূলের (Trinamool Congress) একের পর এক নেতাকর্মীদের কাছে নোটিশ পাঠাচ্ছে ইডি। টাকার হিসাব কিছুতেই মিলছে না ঘাসফুল শিবিরের। সেই কারণে দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলিও ফ্রিজ করে দেওয়া হয়। কোটি কোটি টাকা লেনদেন হলেও তার কোনও হিসাব নেই। এবার সেই হিসাবের জন্যই সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। এমনকি হিসাব না মেলা সেই টাকার অংক ১৬৪ কোটিতে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

টাকার হিসাব নেই তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে

ইডির দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ১৬৪ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। কিন্তু তার কোনও হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। সেই কারণেই এবার সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। যদিও তিনটি অ্যাকাউন্ট থেকে সাময়িক লেনদেন করার অনুমতি দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ১২টি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে রেখেছে পুলিশ। যতক্ষণ না পর্যন্ত তদন্ত করে সব হিসাব মিলছে ততক্ষণ ওই অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ থাকবে বলেই জানানো হয়েছে। যদিও প্রথমে পুলিশ তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছিল, সেখানে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, ওই তিনটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারবে তৃণমূল। তবে সেখানে স্পেশাল অফিসার নিযুক্ত করা হবে, এবং তাদের মাধ্যমেই টাকা তুলে শুধুমাত্র কর্মীদের বেতন দিতে পারবে।

না উল্লেখ করলেই নয়, এই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে গরমিলের অভিযোগ করেন ঋতব্রত শিবিরের এক তৃণমূল বিধায়ক। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রথমে তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হয়, এবং পরে আরও ১২টি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। এ বিষয়ে বরানগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ বলেন, ১৬৪ কোটি টাকা কিছুই নয়। তদন্ত করলে এই অংক প্রায় ১০০০ কোটি টাকায় গিয়ে পৌঁছবে।

আরও পড়ুন: দেশজুড়ে নামাজ বন্ধের দাবিতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে চিঠি

এমনকি ইডির আরও দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের অ্যাকাউন্ট থেকে কোটি কোটি টাকা সন্দেহজনক লেনদেনের কিছুটা হদিশ মিলেছে। এই বিপুল পরিমাণ টাকা দিয়েছে কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন নামক একটি সংস্থা এবং তাদের সহযোগী বিভিন্ন সংস্থার অ্যাকাউন্টে। সবথেকে বড় ব্যাপার, ওই সংস্থা-ই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ ভিআইপিদের বিমান ভাড়া মেটাত। এমনকি তাদের নাকি তৃণমূলের তহবিল থেকে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল বলেই অভিযোগ। যদিও এখনও পর্যন্ত তদন্তকারী আধিকারিকরা ১৬৪ কোটি টাকার হিসাব কিছুতেই মেলাতে পারছেন না।

Leave a Comment