আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: রবিবার দিল্লির (Delhi) রামলীলা ময়দানে INDIA (Indian National Developmental Inclusive Alliance) জোটের মেগা সমাবেশকে কেন্দ্র করে চরম উদ্বেগে রাজধানীর ব্যবসায়ী মহল। উৎসবের মরশুমে এই সমাবেশের জেরে দিল্লির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের সংগঠন চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (Craftsman Training Institute)-র দাবি, রামলীলা ময়দান থেকে পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা প্রায় তিন লক্ষ দোকানের মধ্যে আড়াই লক্ষই বন্ধ থাকতে পারে। অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবসায়িক কার্যকলাপ থমকে যাওয়ার আশঙ্কা! উল্লেখ্য, নির্বাচন সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করেছে বিরোধী জোট।
উৎসবের মরশুমে বড় লোকসান!
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে উৎসবের মরশুমের ব্যবসা নিয়ে। CTI-র হিসাব অনুযায়ী, দিল্লির প্রায় ২০ থেকে ২২টি বড় পাইকারি ও খুচরো বাজারে প্রতিদিন ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়। সমাবেশের কারণে সেই বিপুল অঙ্কের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা সংগঠনের। এর প্রভাব শুধু দোকানদারদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। CTI-র দাবি, প্রায় ২০ লক্ষ ব্যবসায়ী এবং বাণিজ্যিক পরিকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত ৭৫ লক্ষ মানুষের জীবিকাও এর ফলে বিপদের মুখে পড়তে পারে। ৬ নভেম্বর ধনতেরাস এবং ৮ নভেম্বর দীপাবলি। বলাই বাহুল্য, ১ নভেম্বর কেনাকাটা ও পণ্য সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। তাই ক্ষতির পরিমাণ এবং আশঙ্কা উভয়ই অনেকটাই বেশি।
শুধু দোকান বন্ধ থাকাই নয়, পণ্য পরিবহণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাতেও বড়সড় ধাক্কার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। CTI-র চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েলের বক্তব্য, প্রতিদিন ৫৬টি শিল্পাঞ্চল থেকে প্রায় পাঁচ হাজার ট্রাক ও টেম্পো দিল্লির এই বাজারগুলিতে পণ্য নিয়ে আসে। নরেলা, বাওয়ানা, ওখলা, মায়াপুরি, মুন্ডকা এবং উদ্যোগ নগরের মতো শিল্পাঞ্চল থেকে আসা পণ্য লোডিং ও আনলোডিংয়ের কাজ ব্যাহত হলে নিঃসন্দেহে গোটা সরবরাহ ব্যবস্থাতেই তার প্রভাব পড়বে। গোয়েলের দাবি, ধনতেরাসের জন্য পাঠানো বহু পণ্য ইতিমধ্যেই গুদামে আটকে রয়েছে, সেগুলি দোকানে পৌঁছতে পারছে না। পাশাপাশি সোনিপত, পানিপথ, গুরুগ্রাম, ফরিদাবাদ, গাজিয়াবাদ, নয়ডা, মিরাট, বাহাদুরগড় ও ঝাজ্জরের মতো পার্শ্ববর্তী শহর থেকেও ক্রেতারা যানজটের আশঙ্কায় দিল্লির বাজারে নাও আসতে পারেন। সেই সম্ভাবনাই বেশি।
সমাবেশে যোগ দিতে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের জমায়েত এবং ১৫ থেকে ২০ হাজার বাস, গাড়ি ও টেম্পো আসার সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে CTI। সংগঠনের বক্তব্য, রামলীলা ময়দানে ২০০টি বড় বাস রাখার মতো পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও নেই। ফলে আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে গাড়ি দাঁড় করানো হলে যান চলাচল স্বাভাবিকভাবেই অচল হয়ে পড়বে। বিশেষ করে–
- জওহরলাল নেহরু মার্গ (JLN Marg)
- বাহাদুর শাহ জাফর মার্গ
- নেতাজি সুভাষ মার্গ
- আজমেরি গেট
- চাঁদনি চক রোড
এই রাস্তাগুলিতে যানজট তৈরি হলে মধ্য ও পুরনো দিল্লির বাজারগুলিতে ক্রেতা ও পণ্যবাহী গাড়ির যাতায়াত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের।
আরও পড়ুন: হুডখোলা গাড়িতে রাহুল, মমতারা! প্রশাসনকে উপেক্ষা করেই দিল্লিতে ‘মেগা র্যালি’ বিরোধীদের
এদিকে, এই পরিস্থিতি নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে এই নিয়ে চতুর্থবার চিঠি দিয়েছে CTI। এর আগে সমাবেশে যোগ দিতে আসা মানুষজনকে দিল্লির বাজার থেকে কেনাকাটা করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানিয়েছিলেন স্বয়ং রাহুল। তাঁর সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে CTI-র বক্তব্য, বাস্তবে দোকান বন্ধ থাকা, রাস্তায় যানজট এবং পণ্য পরিবহণে বাধার আশঙ্কায় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। প্রায় ১০০টি বড় বাজার সমিতি একত্রে এই সমাবেশ আরও কিছুদিন পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিল বলেও দাবি সংগঠনের। যার ফলস্বরূপ ব্যবসায়ীদের বিজেপির এজেন্ট বলে আক্রমণ করা হয়। এর জবাবে ব্রিজেশ গোয়েলের স্পষ্ট বক্তব্য, তাঁরা কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি নন, তাঁরা সাধারণ খেটে খাওয়া ব্যবসায়ী। কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া নয়, উৎসবের মরশুমে নিজেদের জীবিকা ও ব্যবসা বাঁচানোই তাঁদের মূল উদ্দেশ্য।