দুইয়ের বেশি সন্তান জন্ম দেওয়া চলবে না! কড়া নিয়ম আনছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজ্যে প্রসূতি মৃত্যুর সবথেকে বড় কারণ অপ্রাপ্তবয়স্ক গর্ভধারণ (Pregnancy) এবং একাধিক সন্তান জন্ম দেওয়া। গতকাল রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় স্বাস্থ্য ভবনে নিজেই এ কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে আগামী দিনে একাধিক প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। তবে এর মধ্যেই উঠে এসেছে দুই সন্তান নীতি। স্বামী-স্ত্রীর সংসারে কোনও ভাবেই দুইয়ের বেশি সন্তান নেওয়া যাবে না বলেই জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

সন্তান জন্ম নিয়ে চালু হচ্ছে নতুন নিয়ম

গতকাল স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মুখে শোনা যায় প্রসূতি মৃত্যুর একাধিক কারণ। তিনি জানান, লজ্জার সঙ্গে বলতে হচ্ছে, নাবালিকা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ প্রথম স্থান অধিকার করছে। বিশেষ করে সুতি ১, সুতি ২, সামশেরগঞ্জ ইত্যাদি জায়গায় এই ঘটনা প্রবল। আর প্রসূতি মৃত্যুর পিছনে সবথেকে বড় কারণ হল নাবালিকা অবস্থায় গর্ভধারণ। কারণ, গ্রামগঞ্জের দিকে ১৮ বছর হওয়ার আগেই অন্তঃসত্ত্বা হয়ে যায় বেশিরভাগ মহিলা। এছাড়া প্রসূতি মৃত্যুর সবথেকে বড় কারণ একাধিক সন্তানের জন্ম দেওয়া। এমনকি পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু জেলা থেকে সম্প্রতি ১৩ বা ১৪ নম্বর সন্তানের জন্ম দিয়ে প্রসূতি মৃত্যুর খবর মিলেছে।

সেই কারণেই এবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় দুটির বেশি সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষেত্রে কড়া নিয়ম আনছেন। এমনকি তিনি দম্পতিদের উদ্দেশ্যে জানিয়েছেন, দুটি মাত্র সন্তানের জন্ম দিন। দুটি সন্তান হলেই স্থানীয় সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসুন। রাজ্য সরকার বিনামূল্যে গর্ভনিরোধক ব্যবস্থা করে দেবে। পাশাপাশি অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় গর্ভধারণের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জোর দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: ১৭ তারিখ অন্নপূর্ণা যোজনার ৩০০০ না ঢুকলে কবে মিলবে টাকা? বিরাট আপডেট

উল্লেখ্য জানিয়ে রাখি, বিজেপি সরকারের ১০০ দিন পূরণ হওয়াতে স্বাস্থ্য ভবনে একাধিক বিষয় নিয়ে বৈঠক হয়েছে। কলকাতায় আগামী দিন আরও নতুন মেডিকেল কলেজ তৈরি করার আশ্বাস দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এছাড়া প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে আয়ুর্বেদিক আউটডোর খোলা হবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অ্যালোপ্যাথি হাসপাতালে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার সুবিধা মিলবে। আর প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতালে ১০ শতাংশ বেড পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে এ কথা অনেক আগেই জানিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কারণ, অনেক সময় সরকারি হাসপাতালে গেলেও বেড খালি পাওয়া যায় না। তাদের জন্যই এই উদ্যোগ।

Leave a Comment